ইলাস্ট্রেটর কি

অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর কি ? ইলাস্ট্রেটর বিস্তারিত আলোচনা

আমার জানি যে এখন সব কিছুই অনলাইন নির্ভরশীল। এমনকি বর্তমান জেনারেশন ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতেই বেশি সবচেয়ে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অনলাইনে আয়ের কিছু উৎস আছে যার মধ্যে একটি হলো গ্রাফিক্স ডিজাইন। গ্রাফিক্স ডিজাইন এর অনেক গুলো অংশ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ইলাস্ট্রেটর। আর ইলাস্ট্রেটর ভালোভাবে শিখতে পারলে আপনি অনলাইবে আয় করতে পারবেন। আর ইলাস্ট্রেটর শিখার আগে আমাদের জানতে হবে ইলাস্ট্রেটর কি? আসুন জেনে নেই।

ইলাস্ট্রেটর কি ?
ইলাস্ট্রেটর একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন এর প্যাকেজ প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করতে পারবেন।ইলাস্ট্রেটর এর প্রথম বাজারজাতকৃত করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডোবি করপোরেশন। সর্বপ্রথম যে ইলাস্ট্রেটরটি বাজারজাত হিয় তার নাম অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর। যা মেক অ্যাপল কম্পিউটারে
ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। আস্তে আস্তে ধারাবাহিকভাবে আইবিএম কমটেবল কম্পিউটারের মধ্যে উইন্ডোজ সাপোর্টেড ইলাস্ট্রেটর বাজারজাত করা হয়। ইলাস্ট্রেটর এর সর্বপ্রথম ভার্সন থেকে এখন পর্যন্ত আপডেয় হতে হতে অনেক গুলো ভার্সন অতিক্রম করেছে। বর্তমানে যে ভার্সনটির চলন রয়েছে সেটি
হলো অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর সিএস৬।
ইলাস্ট্রেটর দিয়ে কি কি কাজ করা যায় ?
আগেই বলা হয়েছে যে , ইলাস্ট্রেটর গ্রাফিক্স ডিজাইন এর একটি অংশ। এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করতে পারবেন। আসলে ইলাস্ট্রেটর হলো ডেস্কটপ পাবলিশিং গ্রুপ এর একটি অতি সহায়ক প্যাকেজ প্রোগ্রাম। পাবলিশিং প্যাকেজ প্রোগ্রাম বলতে বোঝানো হয় যে সব প্যাকেজ প্রোগ্রাম এর মধ্যে টেক্সট এবং পিকচার বা গ্রাফিক্স কে সেমাননাই সাধন করা যায়। অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলা যায় ডিটিপি ( ডিজাইন ফর টেক্সট পিকচার) । অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করে আপনি নিজের মনে ইচ্ছেমতো খুব সুন্দরভাবে টেক্সট এবং পিকচার বা গ্রাফিক্স এর সমন্বয় সাধন করতে পারবেন। এছাড়াও ইলাস্ট্রেটর এর বিশেষন করলে বাস্তব ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে যে সব কাজ করা যায় তা হলো –
১ . যে কোন ডিজাইন উপস্থাপনা করতে ইলাস্ট্রেটর এর সাহায্যে এর লেখার কাজ করতে পারবেন।
২ . যে কোন ধরনের বই এর কভার পেইজ, পত্র পত্রিকা ইত্যাদি মনের ইচ্ছে মতো বানাতে পারবেন।
৩ . যে কোন লেখা, ছবি বা গ্রাফিক্স কে নিজের মন মতো সাজাতে পারবেন।
৪ . বিজ্ঞাপন, পোস্টার, লিফলেট ইত্যাদি জিনিস ও ইলাস্ট্রেটর এর মাধ্যমে সুন্দর করে বানানো যায়।
৫ . ভিজিটিং কার্ড,বিয়ের কার্ড, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ইনভাইট কার্ড ইত্যাদিও খুব সুন্দর করে বানাতে
পারবেন।
৬ . মাল্টিমিডিয়া, ওয়েবপেইজ, অনলাইন গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি এর মধ্যে কাজ করতে ইলাস্ট্রেটর এর
ব্যবহার করা হয়।
৭ . ইলাস্ট্রেটর এর মাধ্যমে সকল প্রকার প্রকাশনা শিল্প প্রতিষ্ঠান এর বিভিন্ন কাজ করা যায় খুব সহজেই।
ইত্যাদি

ইলাস্ট্রেটর থেকে ফ্রিলেন্সিং করে আয় করার উপাইয় সমূহ
এখন আসি ইলাস্ট্রেটর শিখার প্রধান কারণ অনলাইনে আয় কিভাবে করব ? ইলাস্ট্রেটর এর ব্যবহার করে আপনি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করা যায়। মার্কেটপ্লেস গুলো হলো ফ্রিলান্সিং , ফাইভার , আপওয়ার্ক , ইত্যাদি।
কিভাবে ইলাস্ট্রেটর শিখব ?
আপনি যদি পরিশ্রমী হয়ে থাকেন তাহলে ঘরে বসে ইলাস্ট্রে এর কাজ শিখা খুবই সোজা। ইউটিউব এ সার্চ করলে আপনি অনেক ভালো ভালো টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন। ওগুলো দেখে দেখে আপনি ইলাস্ট্রেটর শিখে ফেলতে পারবেন। গুগলে ও আপনি সার্চ করলে অনেক ওয়ে পেয়ে যাবেন ইলাস্ট্রেটর শিখার। তাছাড়া বর্তমানে অনেক ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে যেখানে আপনাকে হাতে কলমে ইলাস্ট্রেটর শিখাবে। কিন্তু এতে আপনার কিছু অর্থ ব্যায়
করতে হবে। তাছাড়াও ইলাস্ট্রেটর যেহেতু গ্রাফিক্স ডিজাইন এর একটি অংশ তাই আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখেন তাহলে আপনই সহজেই ইলাস্ট্রেটর শিখতে পারবেন।
ইলাস্ট্রেটর এর ব্যাসিক ধারণা
অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর প্যাকেজ প্রোগ্রামটি চলে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর মাধ্যমে। অর্থাৎ এটি একটি উইন্ডোজ বেস প্রোগ্রাম। এই কারণে অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর প্যাকেজ প্রোগ্রাম টি চালু করতে হলে আগে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম চালু করতে হয়। আর এজন্য আপনাকে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে যদি অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর প্যাকেজ প্রোগ্রাম টি ইন্সটল করা থাকে তাহলে আপনি সেটা ওপেন করলে যে সব জিনিস দেখতে পাবেন তার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলো –

টাইটেল বার : টাইটেল শব্দের অর্থ উপাধি। যে কোন প্যাকেজ প্রোগ্রাম এর উপাধি বা প্যাকেজ প্রোগ্রাম এর নাম যে বারের মধ্যে থাকে সেটাই টাইটেল বার।
মেনু বার : মেনু শব্দের বাংলা অর্থ তালিকা। লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন সফটওয়্যারটি তে ফাইলে , ইডিট , ……. হেল্প নামক নয়টি শব্দটি বিদ্যমান। এগুলোর যে কোন একটি তে ক্লিক করলে একটি তালিকা দেখা দেয়। যেহেতু প্রত্যেকটি তে তালিকা রয়েছে সুতারং বলা যায় যে প্রত্যেকটি এক একটি মেনু। আর এই মেনু গুলোর সমষ্টি তে যে একটি লাইন দেখা যায় সেটাই মেনু বার।
স্ক্রোল বার : কোন পেইজ এর চারদিকে দেখার জন্য যে বার ব্যবহার করা হয় সেটাই স্ক্রোল বার। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় ডানে বা বামে কোন কিছু বোঝাতে হরিজন্টাল এবং উপর বা নিচে বোঝাতে ভার্টকেল এই দুইটি শব্দ ব্যবহার করা হয়। ঠিক একই ভাবে ইলাস্ট্রেটর এর ক্ষেত্রেও পেইজ এর ডান দিক বা বাম দিক বোঝাতে যে বার ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় হরিজনটাল স্ক্রোল বার। এবং কোন পেইজ এর উপরের দিকে বা নিচের দিকে বোঝাতে যে বাস এর ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় ভার্টিকাল স্ক্রোল বার।
স্ক্রেচ এরিয়া : কোন পেইজ এর চার পাশে যে খালি জায়গায় বিদ্যমান থাকে তাকে বলা হয় স্ক্রেচ এরিয়া। পেইজ এর সসংযোজন বা ব্যবহার করার জন্য যে কোন আইটেম বা অবজেক্ট কে স্ক্রেচ এরিয়া তে অপেক্ষামান অবস্থায় রাখা হয়৷ স্ক্রেচ এরিয়া প্রকৃত অর্থে পেইজ এর সাইজ অপেক্ষা বড় হয় যা স্ক্রোল বার এর সাহায্যে অবকলন করা যায়। তবে আপনি স্ক্রোল এরিয়া তে যা রাখবেন তা সব সময় নিরাপদ কারন স্ক্রোল এরিয়া তে যা থাকে তা কখনোই প্রিন্ট হয় না।

টুল বক্স : আপনি অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার টি ওপেন বা চালু করলে এর বাম দিকে একটি বক্স দেখতে পাবেন যার নাম টুল বক্স। অ্যডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার এর মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের অবজেক্ট তৈরি করতে, এডিটিং এর কাজ করতে, উপস্থাপনা, কালার ম্যানেজমেন্ট, ড্রইং ইত্যাদি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে আপনি টুল বক্স ব্যবহার করে অনেক সুবিধা অর্জন করতে পারবেন।
নেইম অফ একটিভ উইন্ডোজ : যে কোন টাইটেল বার এর মাধ্যমে আপনি কোন উইন্ডোজ বর্তমানে ব্যবহার করছেন তার নাম দেখা যায়। অর্থাৎ টাইটেল বারে উইন্ডোজ এর নাম যেখা যায় আর সেটাই নেইম অফ একটিভ উইন্ডোজ। একে সাধারণত ফাইল নেইম হিসেবে ধরা হয়।
জুম ইন্ডিকেটর : আপনি যে পেইজ টি ব্যবহার করছেন অর্থাৎ চলমান পেইজটিতে কত পারসেন জুম বিদ্যমান তা এখানে দেখতে পারবেন। জুম ইন্ডিকেটর টি হরিজনটাল স্ক্রোল বার এবং স্টেটাস বার এর বাম দিকে অবস্থিত। জুম ইন্ডিকেটর এ ক্লিক করলে আপনি নিদিষ্ট জুম পারসেন টাইপ করে এন্টার করলে সহজে নিজের ইচ্ছে মতো নির্দিষ্ট সাইজে পেইজ অবকলন করতে পারবেন।
প্রিন্ট এরিয়া : অ্যডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার এর পেইজ এর অভ্যন্তরীণ অংশকে প্রিন্ট এরিয়া বলা হয়। প্রিন্ট এরিয়া তে বিদ্যমান সকল অবজেক্ট প্রিন্ট হয়। তাই প্রিন্ট করতে হবে বা করার উপযোগী সব কিছুই এই এরিয়ার ভিতর রাখতে হয়। কারণ এই এরিয়ার বাহিরে কোন কিছু রাখলে তা কখনোই প্রিন্ট হবে না , বিষয়টি সবসময় মনে রাখতে হবে।
পেইজ বর্ডার : যে বর্ডার দ্বারা প্রিন্ট এরিয়া কে চিহ্নিত করা হিয় তাকে পেইজ বর্ডার বলা হয়। পেইজ বর্ডার এর বাহিরের কোন অংশই প্রিন্ট হয় না।
প্যালেট : পেইজ এর ভিতরের অবজেক্ট কে নানা ভাবে রুপায়ন বা উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন প্যালেট এর সাহায্য নিতে হয়, কিন্তু সফটওয়্যার এর ডিফল্ট সেটিং অনুসারে উইন্ডোতে কোন প্যালেট প্রদর্শিত হয় না। নিজের প্রয়োজন মতো মেনু বার আয়ত্তে থাকা উইন্ডো মেনু থেকে প্রয়োজনীয় প্যালেট কে প্রদর্শন করাতে হয়।
স্ট্যাটাস বার : অ্যডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার এর পেইজ ব্যবহার করার সময় কোন কাজ করছেন, কোন টুল ব্যবহার করতেছেন ইত্যাদি তথ্য অবিহিত করে স্ট্যাটাস বার। এছাড়াও স্ট্যাটাস বার এর মাধ্যমে আরও বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। সুতরাং বলা যায় যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার।
রুলার : রুলার মানে কি তা আমারা সবাই বুঝি। ইলাস্ট্রেটর এর পেইজ এ কাজ করার সময় বিভিন্ন ধরনের হিসাব এর কাজ করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন কোন কাজ এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ইত্যাদি হিসেব করতে হবে তখন রুলার ব্যবহার করা হয়। ল্যাপটপ ব্যবহার করার সব সময়ই ডান দিকে বা বাম দিকে কিছু বোঝাতে হরিজনটাল এবং উপরের দিকে বা নিচের দিএ বোঝাতে ভার্টিকেল বলা হয়। সুতারং এই ক্ষেত্রেও কোন পেইজ এর উপরের দিকে বাম দিক থেকে ডান দিকে যে রুলারটি বিদ্যমান তাকে হরিজন্টাল রুলার বলা হয় এবং কোন পেইজ এর বাম দিকে উপর থেকে নিচ দিকে যে রুলারটি বিদ্যমান তাকে ভার্টিকেল রুলার বলে।

Writer Tunazzina Arpita

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here