ইলাস্ট্রেটর-টুলস-পরিচিতি

ইলাস্ট্রেটর টুলস পরিচিতি

অ্যডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যার এ বিদ্যমান টুল বক্সের টুল সমূহের মাধ্যমে নানা রকম ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়। যেমনঃ টেক্সট বক্স, পিকচার বক্স, লাইন আর্ট, টেক্সট পাথ ইত্যাদি বিভিন্ন রকম কাজ করা যায়। আপনি যে কোন একটি টুল সিলেক্ট করলে বুঝতে পারবেন আপনার চলমান ডকুমেন্টে কোন কাজটি করার সুযোগ রয়েছে। কোন টুলের সাহায্যে কোন কাজ করা যায় তা বুঝতে চাইলে টুলের উপর মাউসের পয়েন্টার স্থাপন করতে হয়। কোন ডকুমেন্ট তৈরিতে টুলবক্সে বিদ্যমান টুলসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। টুলবক্সে বিদ্যমান টুল সমূহের সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়া হলো –

1 . Selection Tool (V) : এই টুলটি একটি একক টুল। এই টুলটি ব্যবহার করে আপনি যে কোন অবজেক্ট সিলেক্ট করতে পারবেন। টুলটি সিলেক্ট করে যে অবজেক্টটি সিলেক্ট করবেন তাতে ক্লিক করলে এবং এর মধ্যে থাকা অন্যান্য একাধিক অবজেক্ট সিলেক্ট করতে চাইলে শিফট কী চেপে ধরে ক্লিক করলেই সব একসাথে সিলেক্ট হয়। অবজেক্ট এর সাইজ ছোট বড় করতে হলে সিলেক্টেড অবজেক্ট এর বর্ডারে মাউস
ব্যাবহার করতে হয়। তাছাড়াও সিলেক্টেড অবজেক্ট কে সুবিধা মতো স্থানান্তর করতে মাউস কে ড্রাগ করতে হয়।

2 . Direct Selection Tool (A) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটি ব্যবহার করে আপনি বিভিন্ন রকম ড্রইং করতে পারবেন। উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে আপনি কোন চতুর্ভুজ বা বৃত্ত বা এজাতীয় কোন ড্রইং করার পর এর যে কোন কোনকে সুবিধা অনুযায়ী স্থানান্তর করতে এই টুলটি ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি কোন বক্স জাতীয় ড্রইন করতে চাইলে এই টুল এর সাহায্যে খুব সহজেই করতে পারবেন। তাছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজে এই টুলটির ব্যবহার করতে পারবেন। “গ্রুপ সিলেকশন টুল” হলো এই গ্রুপের অন্য একটি টুলের নাম। সরাসরি কোন অবজেক্ট কে সিলেক্ট করতে এবং অন্য কোথাও স্থানান্তর করতে চাইলে আপনি এই টুলটি ব্যবহার করবেন। এই টুলটি ব্যবহার করে আপনি একাধিক অবজেক্ট এর উপর কাজ করতে পারবেন।

3 . Lasso Tool (Y) : এই টুলটি একটি একক টুল।

4 . Direct Selection Lasso Tool (Q) : এই টুলটি একটি একক টুল।Pen Tool (P) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুল ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম লাইন ( যেমন সোজা, আঁকা- বাঁকা ) অংকন করতে পারবেন। এই টুলটির সাহায্য নিয়ে আপনি আঁকা-বাঁকা করে যে কোন কিছু লিখতে পারবেন। সহজ ভাষায় বলতে পারেন যে কোন রকম আঁকা-বাঁকা ডিজাইন করতে চাইলে আপনার এই টুলটির প্রয়োজন পড়বে। এই গ্রুপ টুলটির ভেতরের অন্যান্য টুল গুলোর মধ্যে তিনটি টুল আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি কর্মক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনমতো লাইন যোগ করা, লাইন বিয়োগ করা, লাইন সংশোধন করা ইত্যাদি কাজ করতে পারবেন।

Type Tool (T) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুল টি ব্যবহার করে আপনি পেইজে যে কোন কিছু লিখতে পারবেন। অর্থাৎ এই টুলটি ব্যবহার হয় পেইজ এ টেক্সট টাইপ করার জন্য। টেক্সট বএক্সে এডিটিং করতে চাইলে আপনাকে এই টুলটির সাহায্য নিতে হবে। এই গ্রুপ টুলটিতে উপস্থিত অন্যান্য টুল গুলোও বিভিন্ন
রকমের ডিজাইন লেখার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।

Elipse Tool (L) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটি ব্যবহার করে আপনি গোলাকার বৃত্ত অঙ্কন করতে পারবেন। বৃত্তাকার এবং উপবৃত্তাকার পিকচার বক্স আঁকার জন্য আপনাকে এই টুলটির ব্যবহার করতে হবে। এই গ্রুপ এ উপস্থিথ অন্যান্য টুল গুলো হলো প্ললিজন টুল,স্টার টুল,স্প্রিয়াল টুল। প্ললিজন টুল দিয়ে ত্রিভুজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম ভুজের চিত্র অংকন করতে পারবেন। স্টার টুল দিয়ে স্টার চিহ্ন অংকন করতে পারবেন। স্প্রিয়াল টুল দিয়ে প্যাচানো চিত্র অংকন করতে পারবেন। এই পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে যে সব
চিত্র আকা যায় সেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন করতে পারবেন।

Rectangle Tool (M) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এর সহায়তায় চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র এবং আয়তক্ষেত্র বক্স অঙ্কন করতে পারবেন। । এই গ্রুপের টুলটিতে উপস্থিত অন্য টুলটি হলো রাউন্ডেড রেকটেংগাল টুল। এই টুলটির দ্বারা আপনি রাউন্ড শেপ করা চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র এবং আয়তক্ষেত্র বক্স অঙ্কন করতে পারবেন।

Paintbrush Tool (B) : এই টুলটি একটি একক টুল। পেইন্ট করে লাইন ও ছবি আঁকার জন্য এই টুলটির ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ মনের ইচ্ছে মতো আকঁতে চাইলে আপনি এই টুলটি ব্যবহার করতে পারেন।

Pencil Tool : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটি ব্যবহার করে আপনি মনের ইচ্ছে মতো পেন্সিল দিয়ে অংকন করতে পারবেন। আপনাকে নিজের সুবিধামতো লাইন, ছবি ও প্রচ্ছদ আঁকতে এই টুলটি ব্যবহার করতে হবে। এই গ্রুপ টুলটির ভেতরের অন্যান্য টুল গুলো হলো স্মুথ টুল, ইরেজ টুল। স্মুথ টুল ব্যবহার করে পেন্সিল টুল দিয়ে তৈরীকৃত ছবি সংশোধন করতে পারবেন। ইরেজ টুল ব্যবহার করে পেন্সিল টুল দিয়ে তৈরীকৃত ছবি বিভিন্ন অংশে ভাগ করতে পারবেন। এইসব পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে তৈরীকৃত চিত্রের দ্বারা বিভিন্ন রকম
ডিজাইন করতে পারবেন।

Rotate Tool (R): এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। স্থির অবস্থা একটি থেকে অবজেক্টকে সুবিধামত ঘোরানোর জন্য এই টুলটি ব্যবহার করা হয়। এই টুলটির ব্যবহার করে আল্ট্রা চেপে কোন কিছু কপি করলে পরবর্তীতে কন্ট্রোল ডি চেপে মনের ইচ্ছেমত ঘুরিয়ে পেষ্ট করতে পারবেন । এভাবে আপনি অনেক ডিজাইন করতে পারবেন । এই গ্রুপের অন্য একটি টুলটি হলো টুইর্ল টুল। এই টুল ব্যবহার করে যে কোন অবজেক্টকে ঘোরানো যায়। অর্থাৎ মধ্যবিন্দু ঠিক রেখে মনের ইচ্ছেমত যে কোন অবজেক্টকে ঘোরানো পাকানোর জন্য এই টুল ব্যবহার
করতে পারবেন ।

Scale Tool (S) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। একটি স্থির অবস্থান থেকে অবজেক্টের সাইজ পরিবর্তন করতে এই টুলের ব্যবহার করতে পারবেন । উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, একটি বৃত্তকে এই টুল এবং আল্ট্রা কী ব্যবহারে কপি করে সৌরজগতের গতিপথ তৈরী করা সম্ভব। এর অন্য একটি টুল হলো রিশেপ টুল । এর মাধ্যমে বিভিনড়ব অবজেক্ট কে এডিটিং বা সংশোধন করতে পারবেন । পেন টুল , পেইন্ট ব্রাশ টুল , পেন্সিল টুল ব্যবহার করে তৈরীকৃত অংকিত অবজেক্টগুলোর মধ্যে কোন সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করার জন্য এই টুল ব্যবহার
করতে পারবেন ।

13 . Reflect Tool (O) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে প্রতিচ্ছবি বা বা ডুপ্লিকেট কপি তৈরী করতে পারবেন । অর্থাৎ একটি নিদ্রিষ্ট অক্ষের ভিত্তিতে অবজেক্টকে প্রতিবিম্ব করতে পারবেন । উদাহরণ দিয়ে বলা যায় , প্রজাপতির একটি পাখা তৈরী করার পর অন্য পাখাটি এই টুলের মাধ্যমে তৈরী করা সম্ভব। এর অন্য একটি টুল হলো শিয়ার টুল (Shear Tool) । এই টুলটির ব্যবহার করে যে কোন অবজেক্ট এর ছায়া ফেলা যায়। উদাহরন দিয়ে বলা যায় একটি চতুর্ভুজ অঙ্কন করে এই টুল এবং আল্ট্রা কী ব্যবহারে কপি করে চতুর্ভুজটির কালার বা রং পরিবর্তন করলেই ছায়াটি দৃশ্যমান হয়ে যাবে।

14 . Free Transform Tool (E) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। একটি অবজেক্টকে ঘোরানো, সাইজ পরিবর্তন করা, স্থানান্তর করা ইত্যাদি কাজ করার জন্য এই টুলটির ব্যবহার করতে পারবেন।

15 . Blend Tool (W) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। একাধিক অবজেক্টের মধ্যে কালার শেপ এর সংমিশ্রণ ঘটানোর জন্য এই টুলের ব্যবহার করা হয়। উদাহরন হিসাবে একটি ত্রিভুজ ও একটি চতুর্ভুজ তৈরী করে দুইটিতে আলাদা আলাদা কালার বা রং দিয়ে এই টুল সিলেক্ট করার পর একটি একটি করে দুইটি কালার বা রং এর উপর ক্লিক করলেই ফলাফল বুঝতে পারবেন। এর অন্য একটি টুল হলো অটো ট্রেস। টুলটির ব্যবহার করে অবজেক্টের আউটলাইন সনাক্ত করতে পারবেন । কর্মক্ষেত্রে এর অতো ব্যবহার হয় না ।

16 . Column Graph Tool (J) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম গ্রাফ সংযোজন করতে পারবেন । এই কাজটি করার জন্য আপনি এই টুলটি সিলেক্ট করে মাউস দিয়ে ড্রাগ করে একটি বক্স তৈরী করে ছেড়ে দি্বেন । এই অবস্থায় একটি বক্স আসবে তখন আপনি যে ছকের উপর ভিত্তি করে গ্রাফ তৈরী হবে তা লিখে ঐ বক্সের উপরে ডান দিকে ঠিক চিহ্নে (_) ক্লিত করবেন । সাথে সাথে আপনার মনের ইচ্ছেমত একটি গ্রাফ তৈরী হয়ে যাবে। এই টুলের আওতায় আরও কয়েকটি গ্রুপ টুল আছে। সেগুলো ব্যবহার করে
একই পদ্ধতিতে গ্রাফ তৈরী করতে পারবেন।

17 . Gradient Mesh Tool (U) : এই টুলটি একটি একক টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে বহু কালার বিশিষ্ট অবজেক্ট বানাতে পারবেন এবং কালার সংমিশ্রত শেড নির্ধারন করতে পারবেন । উদাহরন দিয়ে বলা যায় একটি বৃত্ত বা চতুর্ভুজ বা এ জাতীয় কোন অবজেক্ট তৈরী করার পর তা সিলেক্ট করে এই টুল সিলেক্ট করার পর তৈরীকৃত অবজেক্টের উপর ড্রাগ করে অন্য রং সিলেক্ট করলেই আপনি ফলাফল পেয়ে যাবেন। এই টুলটির মাধ্যমে একই অবজেক্টের উপর একাধিকবার একই পদ্ধতিতে কাজটি করে একাধিক কালারের সংমিশ্রন করতে পারবেন ।

18 . Gradient Tool (G) : এই টুলটি একটি একক টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে কোন অবজেক্টের উপর গ্রেডায়েন্ট নির্ধারন করতে পারবেন । উদাহরন দিয়ে বলা যায় , একটি বৃত্ত, চতুর্ভুজ বা এ জাতীয় কোন অবজেক্ট সিলেক্ট করার পর গ্রেডায়েন্ট প্যালেট থেকে যে কোন একটি গ্রেডায়েন্ট সিলেক্ট করলেই সিলেক্ট কৃত অবজেক্টে গ্রেডায়েন্ট এর ফলাফল পেয়ে যাবেন। গ্রেডায়েন্ট এর বিভিন্ন ডিজাইন সওয়াচেচ
প্যালেট থেকে নেওয়া যায়। পরবর্তীতে গ্রেডায়েন্ট টুল সিলেক্ট করে ঐ অবজেক্টের মধ্যে ড্রাগ করলে তৈরীকৃত গ্রেডায়েন্ট এর স্টাইল পরিবর্তন করতে পারবেন এই টুল এর ব্যবহার করে।

19 . Eyedropper Tool (I) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে কোন অবজেক্টের নিদ্রিষ্ট কালার কিংবা এ্যাট্রিবিউট ধারণ প্রদর্শন করতে পারবেন । এর মধ্যে উপস্থিত অন্য একটি গ্রুপ টুল পেইন্ট বাকেট টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে কোন অবজেক্টের উপর নিদ্রিষ্ট রং প্রয়োগ করতে পারবেন।

20 . Scissors Tool (C) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে তৈরীকৃত অবজেক্টের নিদ্রিষ্ট অংশ কেটে ফেলতে পারবেন । এজন্য একটি বৃত্ত, চতুর্ভুজ বা এজাতীয় কোন অবজেক্ট তৈরী করে সিলেক্ট করা পর এই টুলটি সিলেক্ট করে তৈরীকৃত অবজেক্টের বর্ডারের একপ্রান্তে একটি ক্লিক করে অন্যপ্রান্তে আরেকটি ক্লিক করার পর ফলাফল পেয়ে যাবেন। এর মধ্যে উপস্থিত অন্য একটি টুল হলো নাইফ টুল । এই টুলটির ব্যবহার করে কোন অবজেক্টের নিদ্রিষ্ট কিছু স্থান মনের ইচ্ছেমত কাটে ফেলতে পারবেন । এজন্য অবজেক্টকে সিলেক্ট করার পর এই টুলটি সিলেক্ট করে মনের ইচ্ছেমত ড্রাগ করলেই ফলাফল পেয়ে যাবেন।

21 . Hand Tool (H) : এই টুলটি একটি গ্রুপ টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর আর্টবোর্ড কে উইন্ডোকে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তর করতে পারবেন। যে কোন টুল একটিভ থাকা অবস্থায় স্পেসবার চাপলে হেন্ড টুল এক্টিভ হয়ে যায়। এর অন্য একটি টুল পেইজ টুল । এই টুলটির ব্যবহার করে পেইজ সেট আপ কে পরিবর্তন করতে পারবেন। বড় সাইজ এর কোন কাজ সঠিক সাইজ এ প্রিন্ট করার জন্য এই টুলের সাহায্য নিতে হয়। মিচিউর টুল হলো এর অন্য আরেকটি টুল এর মাধ্যমে বিভিন্ন অবজেক্টের পরিমান পাওয়া যায়। যা
ইনফো প্যালেট এর মধ্যে দেখা যায়। কর্মক্ষেত্রে এর অতো ব্যবহার হয় না ।

22 . Zoom Tool (Z) : এই টুলটি একটি একক টুল। এই টুলটির ব্যবহার করে পেইজ এর আকৃতি বড় করতে পারবেন এবং আল্ট্রা কী ব্যবহারে আকৃতি ছোট করতে পারবেন