web-design

ওয়েব ডিজাইন কি? কিভাবে ওয়েব ডিজাইন শিখতে পারি?


প্রতিনিয়তই আমরা অসংখ্য ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছি । বর্তমান সময়ে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট অনেক বেশী চাহিদা সম্পন্ন একটা ক্ষেত্র। সারা বিশ্বে দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার এবং ডেভেলপারের প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। তবে এই দুইটা প্রশ্নের উত্তর না নিয়েই যদি কেউ ওয়েব ডিজাইন শেখার শুরু করে তবে কিছুদিন যাওয়ার পরেই সে আগ্রহ হারিয়ে ফেল। বিশেষ করে কম্পিউটার সাইন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা বন্ধু- বান্ধবদের দেখে বা ভার্সিটির প্রজেক্টের জন্য অথবা ফ্রিলান্সিং করে অনেক অনেক টাকা আয় করার জন্য ওয়েব ডিজাইন শিখা শুরু করে দেয়। মূলত ওয়েব ডিজাইন তো দূরের কথা তারা জানেও না ওয়েব ব্রাউজিং কিভাবে করতে হয় । তার পরেও বিভিন্ন কারণে ওয়েব ডিজাইন শিখা শুরুতো করে কিন্তু জানেও না যে ওয়েব ডিজাইন জিনিসটা আসলে কি?এরই ফলস্রুতিতে কিছুদিন যাওয়ার পর সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এবং বুঝতে পারে ওয়েব ডিজাইন আসলে আর জন্য নয়। তাই ওয়েব ডিজাইন শিখা শুরু করার আগে ওয়েব ডিজাইনটা কি তা জানতে হবে এবং আমি কেন ওয়েব ডিজাইন শিখব। আর এই প্রশ্ন ২টার উত্তর না জেনে ওয়েব ডিজাইন শিখতে যাওয়া ড্রাইভিং না যেনে গাড়ি চালানোর মতো হবে।

ওয়েব ডিজাইন কি?
ওয়েব ডিজাইন বলতে বোঝানো হয় ওয়েব সাইটকে ডিজাইন করা। এখন ওয়েবসাইট জিনিসটা কি এটা না জানলে ব্রাউজার এ গিয়ে গুগল এ সার্চ দিন। যদিও গুগল একটি সার্চ ইঞ্জিন কিন্তু এটাও একটি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি স্টেটিক আরেকটি হলো ডায়নামিক। এখন কথা হচ্ছে ওয়েব ডিজাইনটা কি? একদম সহজ কথায় যদি বলতে চাই ওয়েব ডিজাইন হচ্ছে স্টেটিক ওয়েবসাইট তৈরি করা। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে?এর কোথায় কি থাকবে,কোথায় কোন রং ব্যবহার করব,কোথায় কোন গ্রাফিক্যাল কন্টেন থাকবে যেমন ছবি বা স্লাইড থাকবে এগুলো বিভিন্ন ওয়েব টেকনোলজি ব্যবহার করে তৈরি করাটাই মূলত ওয়েব ডিজাইন। আর যারা এই কাজটি করে থাকে তাদের ওয়েব ডিজাইনার বলে। আর স্টেটিক ওয়েবসাইট তৈরি করা হচ্চে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং যারা এ কাজ করে তাদের ওয়েব ডেভলপার বলে। ওয়েব ডিজাইন এর পরের ধাপটাই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। এজন্য প্রতিটি ওয়েব ডেভলপারই ওয়েব ডিজাইনার কিন্তু প্রতিটি ওয়েব ডিজাইনার ওয়েব ডেভলপার নয়।
ওয়েব ডিজাইন কেন শিখবেন ? বর্তমানে সারাবিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন এরও বেশি একটিভ ওয়েবসাইট আছে। আর ইন্টারনেট এত জনপ্রিয়তা দিন দিন কতাটা বেড়ে চলেছে তা নতুন করে বলার কিছুই নেই। এবং ইন্টারনেট মানেই ওয়েবসাইইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমি যখনই কোন কিছু করতে যাবো আমাকে কোন না কোন ওয়েবসাইট বা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন এর মাধ্যমে সেটা করতে হবে। তাই ওয়েব ডিজাইন এর গুরুত্ব কত সেটা বুঝতে খুব বেশি কষ্ট করা লাগবে না। বর্তমানে বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে যে পরিমাণ দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার বা ডেভলপার প্রয়োজন তার মাত্র ২০% এই সেক্টরে কাজ করছে। এ জন্য দক্ষ ওয়েব ডিজাইনার ডেভলপার এর চাহিদা অনেক। এটাতো হলো চাকরির কথা এছাড়াও ফিল্যান্স আউটসোর্সিং এ ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর কাজের চাহিদা সব চেয়ে বেশি। তাই আপনি কেন ওয়েব ডিজাইন শিখবেন তা বুঝতেই পারছেন।
ওয়েব ডিজাইন কিভাবে শিখবো? ওয়েব ডিজাইন কিভাবে শিখবো তা জানার আগে আপনাকে জানতে হবে ওয়েব ডিজাইন শিখতে কি কি লাগবে? প্রথমত একটি কম্পিউটার থাকতে হবে, আপনার যদি এমন একটি কম্পিউটার আছে যেটি কোন রকমে চালু করা যায় সেটি হলেও চলবে। কম্পিউটার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকতে হবে। এছাড়াও ইন্টারনেট এর ব্যবহার সম্পর্কে আপনার একটি পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ওয়েব ডিজাইন শেখার প্রাথমিক পর্যায়ে আপনার কিছু সফটওয়্যার এর প্রয়োজন হবে যেগুলো আপনি খুব সহজেই ইন্টারনেট থেকে নিয়ে নিতে পারবেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে একটি ব্রাউজার ও ভালো একটি টেক্সট এডিটর। এবং সবশেষে যা আছে তা হলো শেখার জন্য প্রবল ইচ্ছা। আর এটাই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস যেটা আপনার ওয়েব ডিজাইন শিখতে হলে সবচেয়ে বেশি দরকার। আগের তিনটি জিনিস না থাকলেও আপনি কোন না কোনভাবে ওয়েব ডিজাইন শিখে ফেলতে পারবেন। কিন্তু শেখার ইচ্ছা না থাকলে আপনার সব জিনিস থাকলেও আপনার ধারা ওয়েব ডিজাইন শিখা সম্ভব হবে না। আর এই জিনিস গুলো থাকলে তার পর আপনার মনে হবে কথা থেকে কিভাবে শিখবো?learn
ওয়েব ডিজাইন শেখার জন্য অপশন রয়েছে আপনার কাছে – একটি হলো কোন ওয়েব ডিজাইন কোর্সে ভর্তি হওয়ার। যে কোন কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আপনি ওয়েব ডিজাইন এর ৩ মাস, ৬ মাস অথবা ১ বছর মেয়াদী কোর্স খুজে পাবেন। আপনার সুবিধামতো যে কোন একটি কোর্সে আপনি ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। সেখান থেকে আপনি ওয়েব ডিজাইন এর বেসিকটা শিখতে পারবেন। কিন্তু এই জিনিসটা আপনি তখনই করবেন যখন দেখবেন নিজে নিজে শিখার ক্ষমতা আপনার নেই। আর যদি নিজে নিজে কোন কিছু করার চরম আগ্রহ ও ধৈর্য আপনার থেকে থাকে তবে আপনাকে কোন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে যেতে হবে না। তাই দ্বিতীয় পথটি হলো বই পড়ে ইন্টারনেট রিসার্চ করে এবং অসংখ্য টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে আপনি নিজে নিজে শিখে ফেলতে পারেন ওয়েব ডিজাইন। তবে আপনার যদি কোন সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে কোর্সে ভর্তি হয়ে কোর্সটি সম্পূর্ণ করাই ভালো। ওয়েব ডিজাইন শিখতে হলে কি কি জানতে হবে?


ওয়েব ডিজাইন এর বেসিক এলিমেন্ট হচ্ছে ৩ টি –
HTML
 CSS
 JavaScript

মাত্র এই তিনটি জিনিস জানলেই যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট ডিজাইন করা যায় খুব সহজে। তবে সহজে করতে চাইলে আপ আপনাকে এই জিনিসগুলো শিখতে হবে কঠিন ভাবে।

HTML জিনিসটা কি? HTML হলো Hyper Text Markup Language। এর পূর্ণ রুপ থেকেই আমরা বুঝতে পারি এটা একটি ল্যাংগুয়েজ
এবং এটি একটি মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ। ওয়েবসাইট এর স্ট্রাকচারটাই তৈরি করা হয় এইচটিএমেল দিয়ে। মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ হলো এমন একটি টেক্সট বেজড ল্যাংগুয়েজ যা কিছু নির্দিষ্ট নিয়মে আমাদের ব্রাউজার কে ওয়েবসাইটির স্ট্রাকচার বা গঠন কেমন হবে তা বোঝাতে পারে।
CSS জিনিসটা কি? CSS হলো Cascading Style Sheet। এর নাম শুনলেই বোঝা যায় এর একটা স্টাইল আছে। আসলে এইচটিএমেল
একটি ওয়েবসাইট এর স্ট্রাকচারই বলে দিতে পারে কিন্তু মূলত ওয়েব সাইটি দেখতে কেমন হবে, কোথায় কোন রং হবে, কোন টেক্সটা দেখতে কি রকম হবে সব গুলো এইচটিএমেল এর মাধ্যমে বলে দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সিএসেস আপনাকে সেটা বর্ননা করবে। এর কাজই হচ্ছে ওয়েবসাইট কে স্টাইল দেওয়া বা সাজানো।
JavaScript জিনিসটা কি?
JavaScript এর নাম শুনলেই অনেকে এটাকে জাবার সাথে গিলিয়ে ফেলে কিন্তু জাবা এর সাথে জাভাস্ক্রিপ্ট এর কোন সম্পর্ক নেই। জাভা হচ্ছে একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ কিন্তু জাভাস্ক্রিপট হচ্ছে একটি স্ক্রিপটিং ল্যাংগুয়েজ যা সরাসরি ব্রাউজারে এক্সিকিউট হয়। তবে এর সাথে প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর কিছুটা মিল রয়েছে শুধু পার্থক্য এটাই যে এটা শুধু মাত্র ওয়েব এর জন্য তৈরি এবং এটা শুধু মাত্র ব্রাউজারেই এক্সিকিউট হয়ে থাকে। জাভাস্ক্রিপট জানলে আমরা ওয়েবসাইটে সুন্দর সুন্দর স্লাইড তৈরি করতে পারব এবং ডিজাইনের ক্ষেত্রে একটি ডায়নামিক লুক দিতে পারব।তবে এখানে শেষ নয়। যখন আপনার এগুলো শিখা শেষ হয়ে যাবে তারপরে আপনি আপনার কাজকে আরও একটু সহজ করার জন্য ফ্রেম ওয়ার্ক শিখতে পারেন।

এছাড়াও আপনি যেটা শিখতে পারেন সেটা হলো ফটোশপ । ফটোশপ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ফটো এডিটিং সফটওয়্যার। তবে ফটো এডিটিং ছাড়াও এটা দিয়ে আরো অনেক কাজ করা যায়। একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হলে অনেক গ্রাফিক্যাল কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে হয়। আর এটা করার জন্য ফটোশপ হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকরী টুলস। ফটোশপ শিখলে আপনি অপনার প্রয়োজনমতো ওয়েবসাইটের জন্য গ্রাফিক্যাল কন্টেন্টগুলো মডিফাই করে নিতে পারবেন। আরও একটি বড় সুবিধা হচ্ছে ফটোশপ দিয়ে পুরো ওয়েবসাইট এরই ডিজাইন করা যায়। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইট এর ডিজাইনটি তৈরি করে সেটাকে এইচটিএমেল ফাইলে রুপান্তর করতে হয়। একে পিএসডি টু এইচটিএমেল কনভারসন ও বলা হয়ে থাকে। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও সম্পর্কে জানতে চান তাহলে এটি পড়তে পারেন এসইও কি বিস্তারিত

Writer Tunazzina Arpita

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here