cst

বর্তমানে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিভাগ “CST”,”DNT/DTNT”,”TCT” সম্পর্কে জানতে চান ? আসুন জেনে নেই।
Computer Science And Technology (CST) কারিগরি শিক্ষার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি নতুন Department ”কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি” । এই শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি বছর এই টেকনোলজি থেকে পড়াশুনা শেষ করে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য আমেরিকা, চীন,জাপান,মালেয়শিয়া সহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী এবং কর্মক্ষেত্রে ও যোগ দিচ্ছে। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, এন্ড্রয়েড এপস ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, হার্ডওয়্যার সহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতার সাথে পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার কোম্পানি যেমনঃ- গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট,ওরাকল,আই বি এম,ড্রিম ৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড, ট্রিগার আই টি বাংলাদেশ লিমিটেড, ডাটা সফট, সহ আরও বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করছে।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনলজি কি ও কেন পড়বেন ?
কম্পিউটার প্রকৌশল এমন একটি ফলিতবিদ্যা যাতে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের উপাদানগুলো সু-সমন্বয় রয়েছে। কম্পিউটার প্রকোশলীদের সফটওয়্যার ডিজাইন ও হার্ডওয়্যার- সফটওয়্যার একত্রীকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ শিক্ষা ও দক্ষতা আছে। কম্পিউটার প্রকোশলী কম্পিউটার প্রকৌশল এমন একটি ফলিতবিদ্যা যাতে তড়িৎ প্রকৌশল ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের উপাদানগুলো সু-সমন্বয় রয়েছে। ককম্পিউটার প্রকোশলীদের সফটওয়্যার ডিজাইন ও হার্ডওয়্যার- সফটওয়্যার একত্রীকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ শিক্ষা ও দক্ষতা আছে। কম্পিউটিং মাইক্রোপ্রসেসর, পার্সোনাল কম্পিউটার, এবং সুপারকম্পিউটার ডিজাইন থেকে শুরু করে সার্কিট ডিজাইন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখেন। এই প্রকৌশলবিদ্যা ডিভাইস ও যন্ত্রে বিভিন্ন এমবেডেড সিস্টেমকে (উদাহরণস্বরুপ কিছু এমন এমবেডড কম্পিউটার সিস্টেম মোটরযানের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়) ব্যবহারে ভূমিকা রাখে।

Data Telecommunication & Networking Technology (DNT/DTNT)
“ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ার্কিং টেকনলজি” নামের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ এক নতুন টেকনলজি রয়েছে যা বাংলাদেশে সম্পুর্ন নতুন। প্রতি বছর এই টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পড়াশুনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, সার্ভার ডিজাইন, রাউটিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতার সাথে পড়াশুনা শেষ করে এই টেকনোলজি থেকে বিভিন্ন ISP (Internet service Provider) কোম্পানি, ব্যাংক,সরকারি বেসরকারি অফিস আদালতে সুনামের সাথে কাজ করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও টেলিকমিউনিকেশনের উপর উচ্চশিক্ষা অর্জন করে BTCL সহ দেশের সরকারি বেসরকারি টেলিকমিউনিকেশন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করছে এই টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা।

ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ার্কিং টেকনলজির বিষয় বস্তুঃ
ডিজিটাল যুগের সূচনার সাথে সাথে মানবজাতি নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তায় ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ার্কিং এর গোঁড়াপত্তন ঘটে। প্রতিদিন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারে হাই স্পিড নেটওয়ার্কিং ও কমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠা এই টেকনোলজির উদ্দেশ্য। বি.টি.আরসি,বি.টি.সি.এল মোবাইল কোম্পানিসমূহ,ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ (আই.এস.পি) ইত্যাদি সংস্থায় সরাসরি উন্মুক্ত কর্মক্ষেত্র এই টেকনোলজির ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য।

আমাদের দেশ নয় পৃথিবীর সব দেশের ল্যান্ডলাইন অথবা মোবাইল অপারেটর কোম্পানিসহ সকল অফিস,আদালত, ব্যাংকসমূহের নেটওয়ার্কিং সেক্টরে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ ক্ষেত্র উন্মুক্ত। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স, ট্রেড এন্ড টেকনোলজি -তে দেশ ও জাতির উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ারর্কিং বিভাগটি খোলা হয়। এই টেকনোলজির উচ্চশিক্ষিত ও সুপ্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে সর্বোচ্চ মানের তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ল্যাব ফ্যাসিলিটি নিশ্চিত করে এক জন শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলা হয় একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চার বছর মেয়াদী ডাটা টেলিকমিউনিকেশন এন্ড নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়ন করে সফলতা অর্জন করে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে পূর্বেল্লিখিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত রয়েছে এবং পাশ করা শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষাগ্রহনের সুযোগ রয়েছে দেশে বিদেশে।
Telecommunication Technology (TCT)
টেলিকমিউনিকেশন টেকনলোজি ও বাংলাদেশে সম্পুর্ন নতুন একটি টেকনলোজি। প্রতি বছর এই টেকনোলজি থেকে পড়াশুনা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী। টেলিকমিউনিকেশন একটি অন্য তম টেকনলোজি। এটি মূলত ইলেকট্রনিক্স এর একটি অংশ। টেলিকমিউনিকেশন টেকনলোজি মূলত যোগাযোগকে সহজ এবং দ্রত করার জন্য উদ্ভব। টেলিকমিউনিকেশন টেকনলোজি সারা দেশে ডিপ্লোমা পর্যায়ে মাত্র ৪ জায়গায় আছে। এটি একটি নতুন টেকনলোজি বিধায় অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা এই টেকনোলজিকে নিয়ে। অনেকে ভাবে এই টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা পড়ে বি.এস.সি. নেই অথবা চাকরি নেই। সেই দিক দিয়ে এটি খবই কার্যোপযোগী। এইখান থেকে পড়ে বি.এস.সি সহ পেতে পারেন ভালো মানের চাকরি। টেলিকমিউনিকেশন টেকনলোজি IT সেক্টরকে আরো উন্নত করেছে। টেলিকমিউনিকেশন টেকনলোজির বিষয় বস্তুঃ

কেন পড়বেন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং -? এখান থেকে পড়ে কি চাকরি করতে পারবেন -?
একবিংশ শতাব্দীর উষালগ্নে তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব আমাদের জীবনযাত্রায় এক নতুন আলোকিত সংযোজন। আটলান্টিক মহাসাগর দিয়ে ইউরোপ আমেরিকার মধ্যে তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তির এগিয়ে চলার পথকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। আজ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চোখের পলকে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। মানুষ যখন টেলিফোন আবিষ্কার করেছিল,তখন সেটা ছিল এক বিস্ময়। কিন্তু এখন আমরা আর কেবল কথা বলেই ক্ষান্ত নেই,আমরা বিনিময় করি অডিও, ভিডিও, টেক্সট,গ্রাফিক্স, ইমেজ,অ্যানিমেশন।

বরং এখন কিভাবে,কে কত দ্রুত এবং কত নিখুঁতভাবে এই তথ্যগুলিকে আদান-প্রদান করতে পারে সেটা হয়ে দাড়িয়েছে মূল লক্ষ্য। এই জন্য নতুন নতুন মাইক্রো ডিভাইসসহ তৈরি হচ্ছে আকর্ষণীয় সব ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন প্রোজেক্ট। এরই ফলশ্রুতিতে, টেলিকমিউনিকেশন তথা টেলিযোগাযোগ নিয়ে পড়াশুনা সবার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে অনেক বড় বড় টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান, যেমন – টিএন্ডটি,ভেরিযন,জার্মান টেলিকম,চায়না মোবাইল, অরেঞ্জ,বোডাফোন,টেলিনর,ওয়ার্ল্ড টেল প্রভৃতি। এই বিষয়ের উপর হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস প্রয়োজন। এর মধ্যে ওয়েবপ্রপাগেসন ট্রেনার,স্পেকট্রাম এনালাইজার,ওসিলিস্কপ,কমিউনিকেশন ট্রেনার,মাইক্রো-প্রসেসর কিট,ভিএলএসআই ডিজাইন কিট,ফাইবার অপটিক ট্রেনার,ডিজিটাল সিগনাল প্রসেসিং ট্রেনার, নেটওয়ার্ক ট্রেনার সিস্টেম, মোবাইল কমিউনিকেশন ট্রেনার,রাউটার,সুইচ, টিমস মেশিন প্রভৃতি অন্যতম।

যুগের ধারাবাহিকতায়, পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের বাংলাদেশ ও পিছিয়ে নেই৷ আমাদের দেশে গড়ে উঠেছে বড় বড় টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে টেলিটক বাংলাদেশ, রবি,সিটিসেল, বাংলালিংক,এয়ারটেল বাংলাদেশ, গ্রামীণ ফোন, ইত্যাদি কোম্পানির পাশাপাশি বিটিসিএল,মীর টেলিকম,এডিএন,মেট্রোনেট, র্যাং কসটেল,বাংলাদেশ সাব-মেরিন ক্যাবল কোম্পানি,অনিক টেলিকম ইত্যাদি অন্যতম। এছাড়া এ দেশের বিভিন্ন সাবকন ও ভেনডরদের পাশাপাশি আইসিএক্স (ICX), আইআইজি ( IIG), ডাবলইও (EEO), আইএসপি (ISP), বাংলালায়ন,কিউবির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে সমান তালে । এদেশের মানুষের কাছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। বর্তমানে এদেশের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে এসব কোম্পানি তে চাকরি করা একটি লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের দেশে প্রায় সব কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েই এই বিষয়ে গ্র‍্যাজুয়েশন এবং পোষ্ট গ্র‍্যাজুয়েশিন করার বিভাগ রয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ড্যাফোডিল ইইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ প্রথম ইলেকট্রনিক্স এবং টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ থেকে পাশ করে ছাত্র -ছাত্রীরা দেশে বিদেশে বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানিগুলোতে ইঞ্জিনিয়ারিং পদে চাকরি করছে। এছাড়াও বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি নিয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য ইউকে,ইউএসএ,অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ইতালি ইত্যাদি দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। একুশ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে সম্পুর্ন টেলিকমিউনিকেশন ও আইটি নির্ভর একটি দেশ। আমাদের মতো অধিক জনসংখ্যার দেশে সবাইকে তথ্য সেবা দিতে প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার, যারা তাদের দক্ষতা দিয়ে বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সসরকারের ভিশন “ডিজিটাল বাংলাদেশ “। এরই ধারাবাহিকতায় বলা যায় যে,বর্তমানে টেলিকমিউনিকেশননের ওপর পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়া খুবই গুরুত্ব বহন করে

লিখেছেন Tunazzina Arpita

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here