digital-marketing

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সহজ উপায়

সূচনাঃ
ডিজিটাল এই যুগে আমরা মার্কেটিং বলতে মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং-ই বুঝি। ফিজিক্যাল মার্কেটিং এর যুগ আমরা পার করে এসেছি। এখন কোনো একটা পণ্য বাজারে আসার আগেই আমরা সেই পন্যটা সম্পর্কে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ওই কোম্পানির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পণ্যটা সম্পর্কে জেনে যাচ্ছি। সবই সম্ভব হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য। মার্কেটিং এর জনক (Father of Marketing) ফিলিপ কটলার এর মতে মার্কেটিং মানে মানুষের চাহিদা গুলো জেনে সেগুলো লাভজনক ভাবে পূরণ করা। মার্কেটিং-এ বিজ্ঞাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ মাত্র। বর্তমান বিশ্বে প্রায় সকল কোম্পানিই এই পদ্ধতি অনুসরন করেই তাদের ব্যবসায়ের মার্কেটিং করে আসছে। এক্ষেত্রে প্রথমেই কোম্পানিগুলোকে নিজেদের টার্গেটকৃত বাজার জরিপ করতে হয়। এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোল ক্রিয়েট করে মানুষের মতামত গ্রহনের মাধ্যমে খুব সহজেই এইসব বিভিন্ন ধরনের জরিপ করা সম্ভব। এইসব দিক বিবেচনা করে এখন কোম্পানি গুলো ডিজিটাল মার্কেটিংকেই সবথেকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। আর এজন্যেই মানুষ এর প্রতি এতো ঝুকে পরছে। যাহোক, এখানে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সহজ উপায়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। তো দেরি না করে চলেন শুরু করা যাক।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার আগে সকলেরই জানা উচিৎ যে, ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে কি। খুব সহজে যদি সংজ্ঞায়িত করতে চাই তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং হলো কম্পিউটার,ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ব্যবহার করে মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা। এটি পন্যের চাহিদা নির্ণয় থেকে শুরু করে প্রচার প্রসারের প্রধান বাহন হিসাবে কাজ করছে বর্তমান বিশ্বে। এই ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে যার দ্বারা মুলত কোনো পণ্য বা সেবার মার্কেটিং করা হয়ে থাকে। আপনি যদি এই মাধ্যমগুলো তে দক্ষ হতে পারেন, অনেক ভালো একটা বেতনে চাকরির সুযোগ খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। যাহোক, ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য প্রথমেই আপনাকে এর বিভিন্ন মাধ্যম বা প্রকারভেদ সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখতে হবে। মাধ্যম গুলো হচ্ছেঃ

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (Search Engine Marketing)
সার্চ ইঞ্জিন বলতে আমরা মুলত গুগল কেই বুঝি। এই গুগুলে কোনো কিছু সার্চ করলে তার রেজাল্টে প্রথমেই দেখবেন কিছু বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। এভাবে সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপন দেওয়াকেই সাধারনত সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বলে। এগুলো বেশ কার্যকরী একটি পদ্ধতি ডিজিটাল মার্কেটিং এর। এখন বিষয় হলো এই বিজ্ঞাপন গুলো সার্চ ইঞ্জিনে দেখানোর জন্য গুগল বেশ ভালো অংকের একটি অর্থ চার্জ করে। কিন্তু এখানে আপনার কন্টেন্ট বা প্রোডাক্টটিও কোনো চার্জ ছাড়াই ওখানে প্রথমে দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারবেন । এর জন্য দরকার সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন(Search Engine Optimization) বা এস.ই.ও. (SEO) । মূল বিষয়গুলো বুঝে আপনি নিজে নিজেই এই সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং এর কাজ করতে পারবেন।

ই-মেইল মার্কেটিং (E-mail Marketing)
ই-মেইল মার্কেটিংও বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম ডিজিটাল মার্কেটিং এর। আপনার কাছে যদি কিছু একটিভ মেইল থাকে, আপনি সহজেই তা দিয়ে ই-মেইল মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি যদি একজন একটিভ ই-মেইল ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে হয়তো খেয়াল করে থাকবেন যে মাঝে মাঝেই কোনো পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন দিয়ে মেইল এসেছে আপনার ইনবক্স এ। এগুলোই মুলত ই-মেইল মার্কেটিং। এভাবে আপনি যদি এক হাজার একটিভ মেইল জোগাড় করতে পারেন, তাহলে যেকোনো বিজ্ঞাপন এক হাজার জনের কাছে পাঠানোর জন্য আপনার মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে।

কন্টেন্ট মার্কেটিং(Content Marketing)
আপনি যে এই লেখাটি পড়ছেন এটিই একটি কন্টেন্ট। এখন এরকম অনেক লেখা আছে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেগুলো তাদের নিজস্ব কোম্পানির বিভিন্ন পন্য নিয়ে। এভাবে আপনিও চাইলে নিজের ওয়েবসাইট খুলে সেখানে কোনো পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এগুলোকেই মোটামুটি কন্টেন্ট মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে। এধরনের মার্কেটিং এর জন্য আপনার শুধু দুর্দান্ত লেখার দক্ষতা থাকেলেই হবে না, সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন(Search Engine Optimization) বিষয়ক ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। তা নাহলে আপনার লেখাটি লক্ষ লক্ষ লেখার মধ্যে নিমিষেই হারিয়ে যাবে। উল্লেখ করে রাখা ভালো যে আপনার আর্টিকেল যদি এস.ই.ও. (SEO) ফ্রেন্ডলি না হয়, তাহলে কোনো ভাবেই তা র‍্যাঙ্ক করবে না আর র‍্যাঙ্ক না করলে তা আসলে কোনো কাজেই আসবে না।

ভিডিও মার্কেটিং (Video Marketing)
আপনি আপনার পন্যের বিভিন্ন তথ্যাদি, উপকারিতা ইত্যাদি দিয়ে ভিডিও বানিয়ে সেটিকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে, সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবলিশ করতে পারেন। সেখান থেকে যেমন আপনার পন্যের মার্কেটিং হবে সাথে সাথে ওই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল
মিডিয়া থেকেও ভালো অংকের একটি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing)
আপনি কি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার Social Media Influencersদের নাম শুনেছেন যারা বিভিন্ন পন্য বা সেবা মানুষের সামনে তুলে ধরে লাইভে এসে? হয়তো দেখে থাকবেন। এ ছাড়াও ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে কিছুক্ষন স্ক্রল করার পরেই দেখবেন কোনো না কোনো পন্যের বিজ্ঞাপন। এগুলই মুলত সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং। বাংলাদেশে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কারীর সংখ্যা অনেক উন্নত দেশেরথেকেও অনেক বেশি। তাই বর্তমানে বেশির ভাগ কোম্পানি গুলোই সোশ্যাল মিডিয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছে মার্কেটিং এর মাধ্যম হিসাবে। আসলে সত্যিই এই প্লাটফর্মটি বেশ কার্যকর কারন এখানে খুব সহজেই আপনি অনেক সংখ্যক মানুষকে রিচ করতে পারবেন।


এফিলিয়েট মার্কেটিং(Affiliate Marketing)

অন্য কোন থার্ডপার্টির যেকোন প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস যদি আপনি মার্কেটিং করে বিক্রি করে দিতে পারেন তাহলে প্রোডাক্ট কোম্পানি আপনাকে একটা কমিশন প্রদান করবে। যেমন এমাজন এফিলিয়েট, আলিবাবা এফিলিয়েট, ইত্যাদি। আর এই নিজের কোন ধরণের পন্য না থাকার পরেও, আপনি অন্যের প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে বিক্রি করছেন, নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, এই পুরো প্রসেসকে বলা হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং।

এর জন্য আপনাকে শুধু নিজের পছন্দ মতো কোনো একটি প্লাটফর্ম বেছে নিয়ে সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এরপরে কোনো পন্যর মার্কেটিং এর জন্য আপনি এই পন্যের জন্য পার্সোনাল একটি লিঙ্ক পেয়ে যাবেন যেটিকে বিভিন্ন কমিউনিটিতে শেয়ার করবেন। তারপর আপনার ওই লিঙ্ক থেকে ওয়েবসাইটে গিয়ে যদি কেউ পন্য কিনে সেটার জন্য নির্দিষ্ট পরিমানের একটি অর্থ আপনি পাবেন কমিশন হিসাবে। এখানে এই পন্যের মার্কেটিং এর জন্য আপনার যে কমিশন দিয়েছে তার জন্য পন্যের আসল দামের কোনো পরিবর্তন আসবে না। আপনার কমিশন ওই নির্দিষ্ট প্লাটফর্ম কর্তৃপক্ষ আপনাকে প্রদান করবে।


মোবাইল মার্কেটিং (Mobile Marketing)
মাঝে মাঝেই মোবাইলে বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে টেক্সট আসে দেখবেন।এগুলোই মুলত মোবাইল মার্কেটিং। এর জন্যও আপনাকে শুধু ই-মেইল মার্কেটিং এর মতো শুধু কিছু একটিভ নাম্বার জোগাড় করতে হবে। তাহলেই আপনি খুব সহজেই শত শত মানুষকে কয়েক মিনিটেই রিচ করতে পারবেন এবং আপনার পন্যের বিজ্ঞাপন করতে পারবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সহজ উপায় সাধারনত দুই ভাবে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে পারেন। প্রথমটা হচ্ছে গুগলের বা
ইউটিউব এর মাধ্যমে এবং পরবর্তী মাধ্যম হচ্ছে বিভিন্ন কোর্স করে। আমাদের এই আর্টিকেল টিতেই ডিজিটাল মার্কেটিং সম্বন্ধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়া হয়েছে। এরকম আরো অনেক লেখা পেয়ে যাবেন যেখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব দেয়া আছে। এছাড়াও আপনি চাইলে ইউটিউব এ বিভিন্ন ভিডিও দেখেও শিখতে পারেন।

পাশাপাশি আপনি চাইলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কোর্স করে নিতে পারেন। বর্তমানে এরকম অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যার মধ্যে ঘুড়ি-লার্নিং বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়।

শেষ কথা এই ছিল মুলত ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সহজ উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা। এই সেক্টরটি আসলে বর্তমান বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এর চাহিদা কখনো ফুরানোর নয়। তাই আপনি যদি এই সেক্টরে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, ভবিষ্যতে যে লাভবান হবেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here