photoshop-tools

ফটোশপ টুলসগুলোর ব্যবহার


ফটোশপ কি? কিভাবে ব্যবহার করবেন? আপনি যদি অনলাইনে আয় করতে চান তাহলে আপনার ফটোশপ সম্পর্কে সম্পুর্ণ ধারণা থাকতে হবে । শুধু ধারণা নয় আপনাকে সম্পুর্ণভাবে ফটোশপ ব্যবহার করতে জানতে হবে। কারণ অনলাইনে আপনি যে কাজটি করবেন না কেন আপনাকে ফটোশপ এর ব্যবহার করতে হবে। আমরা আজকে ফটোশপ এর কিছু ব্যাসিক জিনিস সম্পর্কে জেনে নেব যা আপনি ফটোশপ সফটওয়্যার টি ব্যবহার করতে চাইলে জানতে হবে। সবার আগে আপনাদের জানতে হবে ফটোশপ কি? আশা করি আপনারা জানেন,তাও আপনাদের সুবিধার জন্য ফটোশপ সম্পর্কে কিছু ধারণা দেওয়া হলো । ফটোশপ হচ্ছে এক ধরনের সফটওয়্যার। যা ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন ধরনের কাজ যেমন – ছবিতে নতুন ডিজাইন তৈরি করা, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন করা, ছবি এডিট করা, ছবিতে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন বা কালার করে ছবিকে আকর্ষণীয় করে তোলা ইত্যাদি কাজ করা হয়।
এছাড়াও ফটোশপ এ এ বিভিন্ন ধরনের ফিচার রয়েছে, যার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন, পত্রিকা, লিফলেট, পোষ্টার থেকে শুরু করে আরও অনেক ধরনের ডিজাইন করতে পারবেন। তাছাড়াও ফটোশপ এর আরও অনেক কাজ রয়েছে। ববর্তমানে অনলাইনে আপনি গ্রাফিক্স, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি যে কাজটি করে থাকেন না কেন আপনার ফটোশপ এর প্রয়োজন পড়বে।

#এখন আমরা জানব ফটোশপ এর ভিতর কি কি রয়েছে? অর্থাৎ ফটোশপ এর ব্যাসিক সম্পর্কে – ফটোশপ এর ব্যাসিক আয়ত্ত করতে হলে আপনাকে সবার আগে টুলবার সম্পর্কে জানতে হবে। ফটোশপ এর ভিতর অনেক গুলো টুলস রয়েছে। মুলত এই এইসব এর সাহায্যেই ফটোশপ ব্যবহার করা হয়। তাই টুলবার সম্পর্কে ভালোভাবে জানলেই আপনি অনেক সহজে ফটোশপ সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন। ফটোশপ এর টুলবার সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দেওয়া হলো –
মার্কি ( Marquee ) টুল ( Keyboard : M ) :
ফটোশপ এর মধ্যে অনেক ধরনের টুলস রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো মার্কি টুল। বৃত্তাকার এবং চতুর্ভুজ আকার দেওয়ার জন্য এবং বিভিন্ন অবজেক্ট তৈরি করার জন্য মার্কি টুল এর ব্যবহার করা হয়। নিখুঁত বর্গাকার সিলেকশন পাওয়ার জন্য শিফট কী চেপে ধরে আয়তকার মার্কি টুল ড্রাগ করতে হয়। আর একইভাবে নিখুঁত বৃত্তাকার সিলেকশন পাওয়ার জন্য শিফট কী চেপে এলিপটিকাল (বৃত্তাকার) মার্কি টুল ড্রাগ করতে হয়।
মুভ ( Move) টুল ( Keyboard : V ) :
ফটোশপ ক্যানভাস এর যে কোন ছবিতে লেয়ার এবং অংকিত সিলেকশন কে নিজের ইচ্ছে মতো যে কোন জায়গায় সরানোর জন্য মুভ টুল ( move tool) ব্যবহার করা হয়। এমনকি মার্কি টুল এর মাধ্যমে সিলেক্ট করা বিভিন্ন আকৃতির সিলেকশন এর মুভিং বা যে কোন জায়গায় সরানোর জন্য ও এই মুভ টুল ব্যবহার করা হয়।
ল্যাসো ( Lasso) টুল ( Keyboard : L) :
ল্যাসো টুল সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যার একটি হলো ফ্রী ফর্ম বা মুক্ত হাত এবং অন্য একটি হলো পলিগোনাল ল্যাসো টুল। ফ্রী ফর্ম বা মুক্ত হাত ব্যবহার করে ফটোশপ ক্যানভাসে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো অবজেক্ট এর চারপাশ দিয়ে লেয়ার সিলেক্ট করতে পারবেন। অবজেক্ট সিলেক্ট করার জন্য মাউস দিয়ে ড্রাগ করতে হয়। সিলেক্ট করার সময় মাউস দিয়ে যখন ড্রাগ করবেন সেই সময় ক্লিক অবস্থা থেকে মাউস ছেড়ে দিলে যে জায়গায় মাউস ছেড়ে দিয়েছেন সেই জায়গা থেকে শুরুর ক্লিকের জায়গা পর্যন্ত রেখা তৈরি হয়ে একটি সিলেকশন তৈরি হয়। আর একই পদ্ধতিতে ল্যাসো টুল এর পলিগনাল টুল এর মাধ্যমে অবজেক্ট না করে ছবির ক্যানভাস সিলেক্ট করে একটি পয়েন্ট হতে অন্য একটি পয়েন্ট প্রয়োজন অনুযায়ী রেখা টানা হয়। এইভাবে ক্যানভাস এর চারপাশে রেখা টেনে আবাতর শুরু হয়েছে যে বিন্দু থেকে সে বিন্দুতে মিলিত করার মাধ্যমেই উক্ত অংশটি সিলেকশন করা হয়।
ম্যাজিক ওয়ান্ড ( Magic Wand ) টুল ( Keyboard : W ) :
বিভিন্ন সিলেকশন টুল এর মধ্যে ম্যাজিক ওয়ান্ড টুল ও এক ধরনের সিলেকশন টুল। এই টুল টি ব্যবহার করতে হলে আপনি যে জায়গায় সিলেক্ট করবেন সেখানে টুলটি নিয়ে সিলেক্ট করার জায়গায় ক্লিক করতে হবে। ফটোশপের এই টুলটি নিজে নিজে সে জায়গাটি সিলেক্ট করে নেয়। কিন্তু সমস্যা হলো এইভাবে সিলেকশন করলে অনেক সময় নিখুঁত সিলেকশন পাওয়া যায় না। তবে এই টুলটির সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দিক হলো অশোধিত উপায়ে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করতে এটি ব্যবহার করা হয়।
ক্রপ ( Crop) টুল ( Keyboard : C ) :
যে কোন ইমুজি কেটে বা ক্রপ করে নিজের ইচ্ছে মতো মাপে আনার জন্য ক্রপ টুল ব্যবহার করা হয়। আইড্রপার (Eye Dropper) (Keyboard: I) :
এই টুলটি কালার কোড, কালার স্যাম্পল দেখিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যবহার হয়। আপনি ফটোশপ এর ক্যানভাস এর যে কোন একটি অংশ ক্লিক করলে সে অংশের কালার কোড,কালার স্যাম্পল কেমন হবে তা এই টুলটির মাধ্যমে দেখানো হয়। তাছাড়া ক্যানভাসে বিভিন্ন ধরনের অবজেক্ট এর কালাত মিল রাখার মতো নানা রকম কাজে এই টুলটির ব্যবহার হয়।
হিলিং ব্রাস (Healing Brush) (Keyboard: J) :
অনেক সময় দেখবেন আপনার সিলেকশন করা কিছু ছবি এক ক্যানভাস থেকে অন্য ক্যানভাসে আনতে গেলে কিছু অবাঞ্চিত কালার বা অবজেক্ট ঢুকে পড়ে। হিলিং ব্রাস এই টুলটি দিয়ে আপনি সেই অবাঞ্চিত কালার বা অবজেক্ট দূর করতে পারবেন। অবাঞ্চিত কালার এর উপর এই টুল দিয়ে ঘষলে আসে পাশের কালার দ্বারা অবাঞ্চিত কালারটু ব্লেন্ড হয়ে যায়। এই টুলটি অনেক কাজের এবং এটি নানা কাজে ব্যবহার করা হয়।
পেইন্টব্রাস (Paint Brush) (Keyboard:B) :
পেইন্ট ব্রাস টুলটি ফটোশপে নানা কাজে ব্যবহৃত হয় । এই টুল ব্যবহার করে নানা রকম আঁকাআকি, লেয়ার মুছে ফেলা, নানা রকম শেপ আকানো সহ অনেক কাজ করা যায়। এই টুলটির ভিতর অনেক রকমের ব্রাশ পাওয়া যায়। এই ব্রাশ গুলো দিয়ে নিজের চাহিদা অনুসারে এক এক কাজ করা যায়।
ইরেজার (Eraser) (Keyboard: E) : ইরেজার শব্দটি দেখেই বুঝা যায় এর কাজ কি। ইরেজার অর্থাৎ রাবার যার কাজই মুছে ফেলা। এই টুলটি পেইন্টকে মুছে ফেলার কাজে ব্যবহার হয়। অর্থাৎ এটি পেইন্টব্রাশ এর বিপরীতে কাজ করে।

ক্লোন স্ট্যাম্প (Clone Stamp) (Keyboard: S) :
এই টুলের ব্যবহার করে ফটোগ্রাফ এর যেকোন অংশের স্যাম্পল সিলেক্ট করা যায়। একই সাথে এর ব্যবহার করে অন্য একটি অংশে তা আবার প্রতিলেপন করা যায়।
টাইপ (Type Tool) টুল (Keyboard: T) :
ফটোশপে ক্যানভাসে যেকোন কিছু লিখতে টাইপ টুলের ব্যবহার যেকোনভাবে করতে পারবেন । এই টুলের ব্যবহার করে ইচ্ছামত ফন্ট,কালার, আনুভূমিক স্টাইল ইত্যাদি ইত্যাদি করা যায় । অর্থাৎ সব ধরনের লেখালেখির কাজ করতে এই টুল ব্যবহার করা যায় ।
ব্লুর, সার্পেন ও স্মুথ টুল (Blur,Sharpen and Smudge) :
ব্লুর টুল এর মাধ্যমে পেইন্ট করা অংশকে ব্লুর করা অর্থাৎ ফোকাস করা হয়। ঠিক একি ভাবে সার্পেন টুল দিয়ে সার্প করা হয় এবং স্মুথ টুল দিয়ে স্মুথ করা হয়
পেইন্ট ক্যান ও গ্র্যাডিয়েন্ট(Paint Can and Gradient) টুল (Keyboard: G) :
ফটোশপ ক্যানভাসে ইমেজের বিভিন্ন অংশ ফোরগ্রাউন্ড কালার দ্বারা ফিল করতে এবং গ্র্যাডিয়েন্ট টুল ক্যানভাসে বিভিন্ন রকম গ্র্যাডিয়েন্ট ইফেক্ট দেয়ার কাজে এই পেইন্ট ক্যান টুল ব্যবহার করা হয়।
পেন(Pen Tool)টুল (Keyboard: P) :
সাধারনত ভেক্টর গ্রাফিক্স আঁকানোর জন্য এই পেইন্ট টুলটি তৈরি । তাছাড়াও বিভিন্ন রকম পাথ তৈরির কাজেও এই পেইন্ট টুলটির ব্যবহার করা হয়।
পাথ (Path) টুল (Keyboard: A) :
এই টুলটি মুভ টুল এর মতন একটি টুল হলেও এই টুল দিয়ে শুধুমাত্র পাথ মুভিং করানো যায়।
শেপ টুল(Shape)(Keyboard: U) :
বিভিন্ন ভেক্টর আকৃতি, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ এইরকম বিভিন্ন শেপ তৈরি করতে শেপ টুল এর ব্যবহার করা হয়।
হ্যান্ড (Hand) টুল (Keyboard: H) :
ফটোশপ এর ক্যানভাস এর যেকোন স্হানে ড্র্যাগ করে করে যেতে হ্যান্ড টুল এর ব্যবহার করা হয়। জুম টুল এর মাধ্যমে জুম করার পর এই টুল দিয়ে বিভিন্ন স্হানে ড্র্যাগ করে যাওয়া যায়।
জুম (Zoom) টুল (Keyboard: Z) :
জুম এর কাজ জানেন না এমন কেউ খুজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ সব ধরনের মোবাইলে এর ব্যবহার করা হয়। ফটোশপ এর ক্যানভাসে কাজ এর সুবিদার্থে বিভিন্ন স্হানে বড় করে দেখার জন্য এর ব্যবহার করা হয়।

কালার সিলেকশন টুল :
কালার সিলেকশন টুল এর ব্যবহার করে আপনার পেইন্ট এ কোন কালার ব্যবহার করতে হবে , ব্যাকগ্রাউন্ড, ফোরগ্রাউন্ডে কোন কালার রয়েছে এসব দেখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here