branding-ki

ব্র্যান্ড এর প্রাথমিক ধারনা :

আমাদের জীবনের চলার গতিতে কাজের প্রয়োজনে বা কোন না কোন কারনে আমাদের নিজদেরকে উদ্যোক্তার চরিত্রে অভিনয় নয় করতে হয়। যদি আপনি একজন সফল ডিজাইনার হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই একজন উদ্যোক্তা হতে হবে, এমনকি আপনি প্রতি মূহুর্তে বিচরণ হবে ব্র্যান্ড এর অলিগলিতে। কারণ কখনও আপনাকে আপনার শিল্পী সত্ত্বা তুলে ধরতে হবে তো ক্লায়েন্টের প্রয়োজনে।

সাধারণত কোন ব্র‍্যান্ড এর ব্র‍্যান্ডিং(brand) করার জন্য লোগো, ওয়েবসাইট, বিলবোর্ড, বা ফ্লায়ার ইত্যাদি এগুলো তৈরি করে থাকে । একজন সফল ডিজাইনার হতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে এই বিষয়গুলোর উপর স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। এইসব বিষয়ে ধারণা রাখলে আপনি যখন কোন ব্র‍্যান্ড এর উপকরণ নিয়ে কাজ করতে যাবেন তখন ঠিক কোন জায়গায় কোন বিষয়, রং বা উপাদানের উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা আপনি নিজে নিজেই বুঝতে পারবেন।তাছাড়াও ক্লায়েন্ট কে নিজের প্রতি সম্পুর্ন আস্থাশীল করতে ও বিষয় গুলোর উপর স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হয় যা পরবর্তীতে আপনার বাড়তি সুবিধার কারণ হয়।

একটি ব্র্যান্ড এর মূল উপাদান হলো লোগো, যা প্রাথমিক পরিচিত ও বলতে পারেন একটি কোম্পানির। কোন ব্র্যান্ড এর নাম মাথায় আনার সাথে সাথেই আপনার মনের অজান্তেই সেই কোম্পানির লোগো ভেসে উঠবে আপনার মনে। কিন্তু শুধু লোগো দিয়ে কখনোই আপনি একটি ব্র্যান্ড সৃষ্টি করতে পারবেন না। একটি ব্র্যান্ড সৃষ্টি করতে আরও অনেক উপাদান সমষ্টির প্রয়োজন হয়।

যদি আপনি ডিজাইন এর মাধ্যমে কোন ব্র‍্যান্ড এর পুরো পরিচিত তুলে ধরতে চান তাহলে আপনাকে ব্র‍্যান্ড, ব্র‍্যান্ডিং(branding) এবং ব্র‍্যান্ড আইডেন্টিটি এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। সাধারন মানুষ কোন কোম্পানির নাম শোনার পর সর্বপ্রথম তার মাথায় যা আসে সেটাই হলো ব্র‍্যান্ড। যে সব কার্যক্রম গুলোর দ্বারা কোন কোম্পানির পরিচিতি তুলে ধরা হয় এবং তা বাজায় রাখতে পরিচালিত হয় সেটাই ব্র‍্যান্ডিং। আর কোন ব্র‍্যান্ড এর সকল উপকরণ এর সমষ্টি যেগুলো একটি ব্র‍্যান্ড কে সমৃদ্ধ করে তাই ব্র‍্যান্ড এর আইডেন্টিটি।

ব্র্যান্ড কি?
ব্র‍্যান্ড হলো একটি কোম্পানির একক সত্ত্বা, ধারণা এবং মনোভাব যা একজন সাধারণ মানুষ মনে মনে পোষণ লরে সেই কোম্পানি সম্পর্কে। এটি এমন একটি ধারণা যা একটি কোম্পানি কে অন্যান্য কোম্পানি থেকে ভিন্ন হওয়ার উপলব্ধি এ প্রমান দেয়। “ইনটুইট” নামক কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মি. স্কট কুক নামক উদ্যোক্তা বলেন – ” এখন একটি ব্র‍্যান্ড তা নয় যা একজন উদ্যোক্তা ভোক্তাদের বলতে চায়, একটি
ব্র‍্যান্ড হলো সেই মতামত যা একজন ভোক্তা অন্য একজন ভোক্তার কাছে প্রকাশ করেন “।

উদাহরণ হিসেবে “অটবি” কে দেখানো যায়। যখন অটবি ফার্নিচার বাংলাদেশে প্রথম তাদের পণ্য বাজার তুলে তখন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সুলভ মূল্যের কারনে অটবি ফার্নিচার কে বেছে নেয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ গুলো তখন নিশ্চিতে অটবির রেডিমেড ফার্নিচার কেনা শুরু করে ফার্নিচার বানানোর ঝামেলা থেকে বাচঁতে। কিন্তু অটবির কাঠের মান অতোটা ভালো এ ছিল না। এর কারণ তাদের ব্র‍্যান্ডের মূল ভিত্তি ছিল সুলভ মূল্যে সাধারণ ফার্নিচার বিক্রি করা। আর তাদের মূল ভিত্তিই তাদের লোগোতে প্রকাশ পেত।

ব্র্যান্ডিং কি?
একটি কোম্পানির ব্র‍্যান্ডের পরিচিতি ভোক্তাশ্রেনী নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়। কিন্তু চালকের আসনে প্রতিষ্ঠাতাকেই বসতে হয়। অর্থাৎ সময়ে সময়ে প্রতিষ্ঠাতাকে ভোক্তা ও ক্রেতাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মনে করিয়ে দিতে হয় ব্র‍্যান্ড এর উদ্দেশ্য ও ব্র‍্যান্ড কি বলতে চায়। আসলে এটাই ব্র্যান্ডিং ।

ব্র্যান্ডিং হলো মূলত একটি কোম্পানি বা ব্র্যান্ড এর উপর ভোক্তাদের পোষণকৃত ধারণা কে সময়ে সময়ে বিভিন্ন মাত্রা দেয়া। ব্র‍্যান্ডিং এর অন্তর্ভুক্ত কার্যক্রম সমূহ হলো ভোক্তাদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে সচেতন করা, কোম্পানি সম্পর্কে কারো কোন ভুল ধারণা থাকলে তা বুঝিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন ইভেন্ট করে ভোক্তাদের সাথে ব্র‍্যান্ড এর নতুন করে পরিচিতি করা, কোম্পানির সুনাম ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নেওয়া ইত্যাদি। ভোক্তাদের মনে পুরোপুরি জায়গা করে নেওয়ার প্রচেষ্টা কখনোই ব্র‍্যান্ডিং এর উদ্দেশ্য নয়। মূলত এর উদ্দেশ্য হলো কোম্পানির পণ্য বা সেবা সম্পর্কে ভোক্তাদের ভুলতে না দেয়া, তাদের সচেতন রাখা ব্র্যান্ড সম্পর্কে। এই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করলে এটি কোম্পানির সফলতার হারকে কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয়।

তাই একটি কোম্পানির ব্র‍্যান্ডিং এর কাজ শুরুর আগে আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আপনি ঠিক কোন মেসেজ টি কোম্পানির ভোক্তাদের দিতে চান ? কোম্পানির লক্ষ্য কি ? যদি একজন সফল ডিজাইনার হয়ে কোন কোম্পানির ব্র‍্যান্ডের উপকরণের ডিজাইন করতে চান তাহলে এই তথ্যগুলো আপনাকে অনেক সাহায্য করবে তবে তা তখনই যখন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার সুস্পষ্ট ধারণা রাখবেন।

ব্র্যান্ড আইডেনটিটি কি?
চোখে দেখা যায় এবং স্পর্শ করা যায় এমন সব উপাদান যেগুলো কোন ব্র‍্যান্ড বা ব্যবসায়ীক অস্তিত্ব কে তুলে ধরে সেগুলোই ব্র‍্যান্ড আইডেন্টিটি। সহজে বুঝানোর জন্য উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কোন ব্র‍্যান্ড এর লোগো , রং, টাইপোগ্রাফি এই সবই ব্র‍্যান্ড আইডেন্টিটি এর মধ্যে পড়ে

একদম সহজ ভাষায় বোঝাতে গেলে যে উপকরণগুলোর সর্বস্তরের ব্যবহার করে কোন ব্র‍্যান্ড এর অস্তিত্ব প্রচার করা হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কালের বিবর্তনে অনেক নামি দামি ব্র‍্যান্ড ও যুগে যুগে তাদের লোগোর ডিজাইন ও রং পরিবর্তন করেছেন। আর এর প্রধান কারণ হলো প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখা এবং ভোক্তাদের মাঝে জনপ্রিয়তা বজায় রাখা।

উদাহরণ হিসেবে কোকাকোলা, অ্যাপল কোম্পানি এদের ইতিহাস দেখতে পারেন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এরা লোগোতে নানা রকম পরিবর্তন এনেছেন। আসলে কোম্পানি জন্য ব্র‍্যান্ড একটি জীবন্ত সত্ত্বা। এর সব ধরনের পরিবর্তন ছোট হোক কিংবা বড় তা ব্র‍্যান্ডের পরিচিতিতে প্রভাব ফেলে। সুতারং ব্র‍্যান্ড এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পুরো তথ্য জেনে নিয়ে একজন ডিজাইনার এর ব্র‍্যান্ড আইডেন্টিটি ডিজাইন করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here