Logo-Desing-Bangla-Blog
Logo-Desing-Bangla-Blog

লোগো ডিজাইন AtoZ – কিভাবে একটি প্রফেশনাল লোগো বানাবেন বিস্তারিত আলোচনা

লোগো ডিজাইন কি
একটি চিত্র ( ইমেজ) বা শব্দের মাধ্যমে এক সাথে অনেক কিছুই বহিঃপ্রকাশ করার মাধ্যমই হলো লোগো । একটি লোগো এর মাধ্যমে একটি দেশ, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা ব্যাক্তিত্ব সহ অনেক কিছু প্রকাশ করা যায়। এই জন্যই লোগো এর ব্যবহার করা হয় প্রতিটা প্রতিষ্টান এ। একট লোগো তখনি সার্থক হয় যখন কেউ সিম্বল দেখলে চোখের সামনে কোম্পানি, দেশ, প্রতিষ্ঠান এর সংক্ষেপে সম্পুর্ণ চিত্র ভেসে উঠে। এক জন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ক্লায়েন্টের ভাবাদর্শ অনুযায়ী লোগো তৈরি করে থাকে ইলাস্ট্রেটর অথবা ফটোশপ দিয়ে। এটি দেখতে যতটা সাধারণ মনে হয় আসলে তা নয়। একটি লোগো ডিজাইন করার সময় যে বিষয় এর উপর ডিজাইন তৈরি করতে হবে তার সব দিক লক্ষ্য রেখে তা ফুটিয়ে তুলতে হয়।

লোগো ডিজাইনের কাজ শুরু করার আগে করণীয় – স্কেচ শুরু করার আগে আপনাকে ক্লায়েন্টের পিছে কিছু সময় ব্যয় করতে হবে আপনার। কারণ লোগো শুধু সুন্দর দেখতে হলে হবে না এতে সেই ব্র‍্যান্ড এর ম্যাসেজ ও থাকতে হবে যার জন্য লোগো তৈরি করছেন। কারণ একটি ব্র‍্যান্ড সম্পর্কে মানুষ জানে তার লোগো দিয়ে। তাই আপনি শুধু সুন্দর একটা লোগো তৈরি করবেন তা নয়। আপনাকে এমন একটি সিম্বল তৈরি করতে হবে যাতে যে কোম্পানির পণ্য বা সেবা সম্পর্কে, অথবা যার জন্য লোগো তৈরি করছেন তার ম্যাসেজটি সিম্বল এর মধ্যে লুকিয়ে থাকে আবার তা মানুষ বুঝতে ও পারে। আর এই জন্য আপনাকে ক্লায়েন্টের পিছনে সময় ব্যায় করতে হবে, ক্লায়েন্টের অডিয়েন্স কারা হবে তা জানতে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। আপনাকে মনোযোগ দিয়ে ক্লায়েন্ট এর চাহিদা সম্পর্কে জানতে হবে এবং ক্লায়েন্টের মন মতো তা তৈরি করতে হবে। দেশ,জাতি, বর্ণভেদে লোগোর ডিজাইন করতে হয় কারণ এই সব সবার এক নয়। আপনার ক্লায়েন্ট যদি ভিন্ন দেশের হয় তাহলে আপনাকে তার কালচার সম্পর্কে জানতে হবে। ক্লায়েন্ট এর অতীতের চাহিদা সম্পর্কে ও ধারণা রাখতে হবে। পূর্বে ক্লায়েন্ট কেমন লোগো ডিজাইন করিয়েছেন, কেমন বাতিল করেছেন, কেন করেছেন ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে নিলেই আপনি ক্লায়েন্টের রুচিবোধ সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। এতে আপনার লোগো ডিজাইন করতে সুবিধা হবে। আপনাদের সুবিধার জন্য লোগো ডিজাইন করার জন্য কিছু টিপস নিচে দেওয়া হলো –

  • ব্র‍্যান্ড সম্পর্কে জেনে নিনঃ একজন লোগো ডিজাইনার হিসেবে অবশ্যই আগে আপনাকে ব্র‍্যান্ড সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। ব্র‍্যান্ড এর পণ্য গুলো সম্পর্কে ভালো করে না জানলে আপনি লোগোতে ম্যাসেজটি দিতে পারবেন না। ক্লায়েন্ট এর দেওয়া ডিজাইন ব্রিফ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিন না বুঝলে তাকে প্রশ্ন করুন। এর পর ও যদি আপনি ক্লিয়ার না হয়ে থাকুন সেই ব্র‍্যান্ড সম্পর্কে সম্পুর্ণ রিসার্চ করুন। তার অতীত এবং ববর্তমান সম্পর্কে ও জেনে নিন।
  • ব্র‍্যান্ড এর টার্গেট কাষ্টমার কে তা জেনে নিনঃ প্রতিটি ব্র‍্যান্ড এর সাথে তার গ্রাহকগণ ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই একজন দক্ষ লোগো ডিজাইনার হিসেবে নিজেকে গড়তে চাইলে গ্রাহকদের দৃষ্টিভংগিকে গুরুত্ব দিন। কারণ গ্রাহকদের কাছে যদি লোগো দ্বারা কোন ম্যাসেজ পৌছাতে না পারেন তাহলে সেই লোগো মূল্যহীন। গ্রাহকদের চাওয়া-পাওয়া অথবা ব্র‍্যান্ড বর্তমান এর সার্ভিসসমূহ গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করছে কিনা সেটা জেনে নিন। আপনি লোগো ডিজাইন করার পর যদি আপনার আত্মতৃপ্তি আসে এবং আপনি যদি গ্রাহকদের চাওয়া-পাওয়া কে লোগোতে ফুটিয়ে তুলতে পারেন তাহলেই আপনি একজন সফল লোগো ডিজাইনার।
  • ডিজাইনে সিম্পলিসিটি বজায় রাখতে হবেঃ একটি লোগো পূর্নতা পায় কিছু শেইপ আর ডিজাইনের সমন্বয়ে। একটি ব্র‍্যান্ডকে একটি সুন্দর লোগোই প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। তাই লোগো ডিজাইন করার সময় এর মূল সারাংশ রাখতে হয় খুব সাধারণ ও সাবলীল। একটু বিবেচনা করে দেখলে বুঝতে পারবেন একজন ডিজাইনার এর ডিজাইন সম্পর্কে সূক্ষ্মদৃষ্টি, দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা প্রকাশ পায় তার তৈরিকৃত লোগো ডিজাইন এর মাধ্যমে। একটি লোগোকে খুব সাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে না পারলে সময়ের সাথে সাথে আপনার লোগো মানুষের মন থেকে উঠে যেতে পারে।
  • ডায়নামিক ভাব রেখে লোগো তৈরি করুনঃ বর্তমানে ডায়নামিক ওয়েবসাইটের যুগে কোন কিছুই স্থির থাকে না। এই জন্য লোগো ডিজাইন এর ক্ষেত্রেও ডায়নামিক ভাব রাখাটা দরকার। তার মানে এই না যে আপনি পুরো লোগো ডিজাইনই পরিবর্তন করে দিবেন। কিন্তু বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে এবং দৃষ্টিকোণে যাতে আপনার লোগোটি মানানসই হয় সেই দিকে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। এইসব দিক বিবেচনা করে লোগো ডিজাইন করলেই বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতিতে সহজেই গ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে আপনার লোগো। বড় বড় কোম্পানিগুলো এই সব দিক বিবেচনায় রেখে তাদের লোগো সিলেকশন করে থাকে।
  • লোগোতে বৈচিত্র‍্যময়তা ফুটিয়ে তুলুনঃ লোগো ডিজাইন করার সময় অবশ্যই আপনার লোগোতে বৈচিত্র‍্যময়তা রাখা উচিত। কারণ মানুষের বৈচিত্র‍্য জিনিস সবচেয়ে ভালো লাগে। কোন বৈচিত্র‍্যময় জিনিস দেখলে তার প্রতি তারা আগ্রহ হয়। এই জন্যই আপনাকে আপনার লোগোতে বৈচিত্র‍্যময়তা ফুটিয়ে তুলতে হবে যাতে লোগোটি বিজনেস কার্ড, ব্রশিওর, ফ্লায়ার,ব্যানার, ফেষ্টুন,পোস্টার অথবা বিলবোর্ড একইরকম সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে পারে। অনেক সময় দেখবেন একটা কিছু লোগো ব্রশিওর কিংবা পোষ্টারে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে কিন্তু যখন একই লোগো কোন বড় মাধ্যম এ দেখা যায় ( যেমন – বিলবোর্ড) তখন তা আর ভালো লাগে না বলতে পারেন মানানসই হয় না। তাই আপনাকে এই জিনিসগুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনাকে এমন একটি লোগো ডিজাইন । করতে হবে যাতে সব মাধ্যমেই দর্শক, গ্রাহক অথবা ক্লায়েন্টকে সমানভাবে আকর্ষণ করতে পারে। প্রত্যেক লোগো ডিজাইন এরই এই সব দিক বিবেচনা করে ডিজাইন এর কাজ শুরু করা উচিত। আর একটি দিক খেয়াল রাখতে হবে তা হলো কালার এর দিক। সৌন্দর্য্যকে অনেক গুন বাড়িয়ে তুলতে কালার বা রঙ এর তুলনা হয় না। কিন্তু তাই বলে যেকোনো রং ব্যবহার করলেই হবে না। এমন না হয়ে যায় যে রঙ এর কারনে আপনার লোগোর ব্যাসিক স্ট্রাকচারকেই বিকৃত করে দিল। এই জন্য কালার নির্বাচন করার আগে আপনাকে যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা করে লোগোর জন্য পারফেক্ট কালার নির্বাচন করতে হবে।
  • কালার এবং ফ্রন্ট নির্বাচনঃ আপনাকে আগেই বলা হয়েছে লোগো ডিজাইন এর লোগোর কালার নির্বাচন করতে আপনাকে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। এই রং নির্বাচন এর পাশাপাশি ফ্রন্ট কিংবা টাইপফেইস যাই বলুন না কেন এর নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ আপনার লোগোতে ব্যবহারকৃত ফ্রন্ট এবং রং দুটোই লোগোর ভেতরের সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে একটা আলাদা আবেদন সৃষ্টি করে। একটি লোগোতে লাল রঙ ব্যবহার করে তাতে একাগ্রতা, ভালোবাসা, আগ্রাসন কিংবা শক্তি ফুটিয়ে তোলা যায়। তেমনি প্রত্যেক রং এর আলাদা ভাষা আছে যা লোগোতে ব্যবহার লরে একেক রকম ভাব প্রকাশ করা যায়। তাই আপনি যে পণ্যের জন্য লোগো তৈরি করছেন না করবেন তার ধরন অর্থাৎ সেই পণ্যের ভাব প্রকাশ হবে এমন রঙ নির্বাচন করে নিবেন। লোগোতে রঙের এই অনুভূতিগুলো ব্যবহার দ্বারাই গ্রাহকের কাছে নির্দিষ্ট পণ্যের গুনাগুন বা তা কি কাজে লাগবে তা সম্পর্কে তুলে ধরে। এই কালার নির্বাচন করতে আপনি ক্লায়েন্ট এর পণ্য সম্পর্কে রিসার্চ করতে পারেন এতে আপনার জন্য লোগো তৈরিতে সুবিধা হবে।

ইউনিক ডিজাইন তৈরিঃ প্রত্যেকটি ডিজাইন এর একটি মৌলিকত্ব থাকা থাকা আবশ্যক। কারণ এই মৌলিকত্বই প্রত্যেকটি লোগোকে অন্য লোগো থেকে আলাদা করে। আর এই জিনিস পারে আপনার তৈরি লোগোকে অন্যান্য পণ্য এর প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করতে। একটি লোগাতে মৌলিকত্ব তুলে ধরার মাধ্যমেই একজন ডিজাইনার তার সৃজনশীল প্রতিভার প্রকাশ করতে পারে। একটি ইউনিক ডিজাইন তৈরিত মাধ্যমেই একজন ডিজাইনার তার পরিচিতি বাড়াতে পারে যা তার ব্যাক্তিগত বা প্রোফেশনাল কাজে প্রচুর অবদান রাখে।