laptop-battery

আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারির যত্নে কি কি করনীয় তা জেনে নিন

প্রযুক্তির এই যুগে এসে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের বিভিন্ন কাজে আমরা ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এর ব্যবহার করে থাকি। আর যদি সেই কাজগুলো আমরা আমাদের বাসার বাহিরে করতে চাই বা এমন কোন জায়গায় সম্পুর্ন করতে চাই যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেক্ষেত্রে ল্যাপটপ -ই আমাদের একমাত্র সহায়ক। আর এই ল্যাপটপ এর স্থায়িত্ব স্বাভাবিক এর চাইতে বেশি হতে পারে যদি ল্যাপটপ এর একটু যত্ন নেওয়া যায়। আর ল্যাপটপ এর যে পার্ট এর সবচেয়ে বেশি যত্ন নেওয়া উচিত তা হলো ল্যাপটপ এর ব্যাটারি। কিন্তু ল্যাপটপ এর যত্ন নেওয়া হলেও ল্যাপটপ এর ব্যাটারিই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। আজকের এই আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন কিভাবে ল্যাপটপ এর ব্যাটারির যত্ন নিতে পারবেন।একটু যত্ন নিলেই ব্যাটারি চার্জ দিয়ে অনেকক্ষণ ব্যবহার করা এবং একে দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়
যত্নসমুহঃ

  • ল্যাপটপ এর ব্যাটারির চার্জ দেয়ার জন্য লেপটপ এর আসল চার্জার ব্যবহার করা উচিত।
  •  ল্যাপটপ তাপ ধরে রাখবে এমন জায়গার উপর না রাখাই ভালো কারণ এতে ল্যাপটপ এর পাশাপাশি
  • ল্যাপটপ এর ব্যাটারিও গরম হয়।
  • আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারি যদি সহজেই খুলে নেওয়া যায় তাহলে ব্যাটারিটি খুলেও পরিষ্কার করে
  • নিতে পারেন।
  •  ল্যাপটপের বাতাস বের করার জন্য ভেন্টিলেশন দেওয়া হয়,এই ভেন্টিলেশন এর মুখগুলো নিয়মিত
  • পরিষ্কার রাখা উচিত। কারণ নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে এতে ধুলো জমা হয়ে বাতাস বের হওয়ার
  • পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
  • পারিপার্শ্বিক বাহ্যিক তাপ মাত্রা বেড়ে গেলে আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারি আরও বেশি গরম হয়ে
  • যায় যা ব্যাটারির জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই ব্যাটারিকে এই ক্ষতিকর অবস্থা থেকে বাচাঁতে নরমাল
  • বা শীতল পরিবেশে ল্যাপটপ ব্যবহারের চেষ্টা করা উচিত।
  • ব্যাটারির যত্ন নিতে আপনি ব্যাটারি সম্পর্কীয় কোন পারদর্শী অ্যাপ বা সফটওয়্যার ব্যবহার করতে
  • পারেন। এসব সফটওয়্যার আপনাকে ডায়াগনোসিস এর ওপর ভিত্তি করে ব্যাটারির বিভিন্ন সেটিং
  • বাছাই করতে সাহায্য করবে ।

 ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ঠান্ডা রাখার জন্য কুলিং ফ্যান বা কুলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । তাই আপনি ল্যাপটপ এ কুলার ব্যবহার করতে পারেন । কিন্তু আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে কুলার এর বিদ্যুৎ উৎস যেন ল্যাপটপ না হয় । কারণ কুলার এর বিদ্যুৎ উৎস যদি ল্যাপটপ এর সাথে হয় এতে ল্যাপটপ এর বেটারীর চার্জ আরও তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে। কুলার এর পাওয়ার ইউএসবি পোর্ট মোবাইল এর এডাপ্টারে লাগানো যায়। সুতরাং আপনি মোবাইল এর এডাপ্টারে লাগিয়েও কুলার চালু রাখতে পারবেন।

 প্রয়োজনের অতিরীক্ত ল্যাপটপ ব্যবহার করা উচিত নয়। বিনা কারণে চার্জে লাগিয়ে দিনের পর দিন রেখে দিলে ল্যাপটপ এর অনেক ক্ষতি হয় সুতরাং এর থেকে বিরত থাকুন। অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে বাচাঁর জন্য বহনযোগ্য একটি বাড়তি ল্যাপটপ ব্যাটারি চার্জার কিনে রাখতে পারেন ।

ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় অর্থাৎ চলাকালীন সময়ে যেভাবে ব্যাটারির যত্ন নিবেন

 ল্যাপটপ এর ডিসপ্লের ব্রাইটনেস প্রয়োজন অনুসারে কমিয়ে ব্যবহার করা উচিত। ল্যাপটপে সাধারনত ব্রাইটনেস কমানো বা বাড়ানোর ‘কি বা বাটন থাকে,তাছাড়াও আপনি সেটিংস এ গিয়ে ও কমিয়ে নিতে পারেন। কাজ করার সময় মনিটর এর প্রয়োজন না পড়লে তা বন্ধ করে রাখা উচিত। ল্যাপটপে কাজ করার সময় ইন্টারনেট ব্যবহার না করলে ওই সময়ে ওয়াই-ফাই বন্ধ করে রাখুন। কারণ ইন্টারনেট বা ওয়াই-ফাই চালু রাখলে তা প্রতি মুহুর্তে চার্জ খরচ করতে থাকে, যখন ইন্টারনেট ডিসকানেক্টেড বা সংযোগ দেয়া না থাকে তখনও সে নেটওয়ার্ক খুঁজতে থাকে। তাই ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পরে।বর্তমানের অধিকাংশ ল্যাপটপে দারুন সাহায্যকারী পাওয়ার সেটিং পাওয়া যায়। আপনার ল্যাপটপ এ যদি উন্ডোজ ১০ থাকে তাহলে উন্ডোজ ১০ এর পাওয়ার অপশন এ গিয়ে পাওয়ার সেভার বাছাই করলে ল্যাপটপের চার্জ কম খরচ হয়।

 ল্যাপটপ এ কাজ করার সময় ইউএসবি পোর্টে যে সব ইউএসবি ডিভাইস ব্যবহার করেন তা যদি ব্যবহৃত অবস্থায় না থাকে তাহলে ইউএসবি পোর্টের সকল ইউএসবি ডিভাইস খুলে রাখা উচিত।

 অব্যবহৃত অ্যাপস বা সফটওয়্যার ইন্সটল করার প্রয়োজন নেই আর যদি করে থাকেন তা ডিজএবেল বা আনইন্সটল করে রাখুন।

 ল্যাপটপ ব্যবহারকালীন সময়ে ব্যাটারি শতভাগ অর্থাৎ ফুল চার্জ হয়ে যাওয়ার পর (ব্যাটারি কখনই ওভারচার্জ হয় না) যদি ব্যাটারির তাপমাত্রা বেড়ে ৬০­ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে ওঠে তাহলে ব্যাটারির চার্জ সংযোগ খুলে নিতে হবে। তবে ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ব্যাটারি চার্জ এ সংযুক্ত রাখত পারেন।

 ব্যাটারি চার্জ না দেয়া অবস্থায় থাকলে ৮০/২০ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। এই পদ্ধতি হলো যখন ল্যাপটপ চার্জ দিবেন তখন ৮০% চার্জ হবার সাথে সাথেই সংযোগ খুলে ব্যবহার করতে পারবেন ঠিক তেমনি ২০% এর নীচে কখনই যাবেন না। আর হ্যা ল্যাপটপ এ চার্জ ১০০% হয়ে গেলে সাথে সাথেই ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। কম দামে ল্যাপটপ এর আর্টিকেল টি পড়তে ক্লিক করুন এইখানে

যে সময় আপনার ল্যাপটপ অব্যবহৃত অবস্থায় থাকে সে সময়ে ব্যাটারির যত্ন যেভাবে নিবেন :

ল্যাপটপ বন্ধ করার পর সাথে সাথেই ব্যাগে না ঢুকিয়ে তা ১০-১৫ মিনিট বাইরেই রাখুন কারণ এতে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি তাড়াতাড়ি ব্যাটারি ঠাণ্ডা হতে পারে।ব্যাটারি অনেকদিন ব্যবহার করার প্রয়োজন না পরলে ৪০% চার্জ দিয়ে শীতল জায়গায় তা সংরক্ষন করে রাখতে পারেন। তবে ভুল করেও ১০০% চার্জ দিয়ে রাখতে যাবেন না ।

যে সব কাজ করা যাবে না –

আপনার ল্যাপটপ ব্যাটারি লিথিয়ান-আয়ন ব্যাটারি হলে কখনই পুরোপুরি চার্জ শূন্য করবেন না কারণ চার্জশূন্য করা একটা জনপ্রিয় ভুল ধারণা। ল্যাপটপ এর ডিস্ক ড্রাইভে প্রয়োজন ছাড়া সিডি ডিভিডি রাখতে যাবেন না । অনেক সময় অনেকে ল্যাপটপ এ সেলফোন চার্জ দিয়ে দেন ভুলেও সেলফোন চার্জ দিতে ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। স্ক্রিন সেভার ব্যবহার বন্ধ করুন, কারণ স্ক্রিন সেভার ল্যাপটপের ওপরে বাড়তি প্রেশার পরে, ফলে চার্জ বেশি খরচ হয়।এক্সটারনাল হার্ডড্রাইভের বা রিমুভেবল ডিস্কের ফাইল সরাসরি না খুলে আগে মূল ড্রাইভে কপি করে তারপর ওপেন করুন ৷ কারণ সরাসরি ওপেন করলে ল্যাপটপ এর ক্ষতি হয়।ব্যাটারি সেভিং মুডে ল্যাপটপ চালালে কোনো অতিরীক্ত পাওয়ার-কনজিউমিং মাল্টিটাস্ক ব্যবহার করতে যাবেন না এতা ব্যাটারির ক্ষতি সাধিত হয় । আপনি যদি একটু সচেতনতার সাথে এবং নিয়মিত যত্ন নিয়ে আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ব্যবহার করে তাহলে আপনার ব্যাটারির দারুন পারফরমেন্স আর দীর্ঘ জীবনকাল নিশ্চিত করতে।

আর্টিকেলটি লিখেছেন তুনাজ্জিনা অর্পিতা

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here