sakib

সাকিব আল হাসান পূজা মন্ডলের বিষয় নিয়ে

এক) সাকিব আল হাসান কলকাতায় পুজো উদ্বোধন করেছেন-এটা তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। তিনি নিজগুনে স্টার হয়েছেন। স্টার হয়ে ভক্তের সাথে সেলফি তোলতে চাননি-এটাও তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু ভক্তের ফোন ভেঙ্গে ফেলেছেন-এটা অপরাধ।

দুই) এখন, অনেকে বলবেন। সাকিব আল হাসান- বড় স্টার। লক্ষ লক্ষ তরুনের আইডল। কাজেই পুজোর উদ্বোধন এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার না। এখানে ধর্মীয় রীতিনীতি জড়িত। লক্ষ তরুনকে তাঁর এই কাজ ভুল ম্যাসেজ দিবে। কেন ভাই- প্রতি মসজিদে প্রতি জুমবারের খুতবা, শত শত ওয়াজ মাহফিল, হাজারো মাদ্রাসার শিক্ষার পাশাপাশি অসংখ্য কোরআন -হাদীস, কিতাব যদি এই লক্ষ লক্ষ তরুণকে মেসেজ দিয়ে শুদ্ধ পথে আনতে না পারে । আর – সাকিবের এক পুজা উদ্বোধনই এদেরকে ভুল ম্যাসেজ দিয়ে বিপথে নিয়ে যায়-তবে এই প্রজন্ম দিয়ে আপনি করবেনটা কি?

তিন) কিন্তু এটাতো ধর্ম বিরোধী। সাকিবতো দোযখে চলে যাবে।
তাতে সমস্যা কি? আপনিতো আর যাচ্ছেন না। আর আপনি- আপনার আত্মীয় স্বজন সবাই বেহেস্তে যাবে- এর কোনো গ্যারান্টি কি অলরেডি পেয়ে গেছেন?

চার) সাকিব দোযখের আগুনে পুড়বে এতে আপনার কষ্ট হচ্ছে।
মৃত্যুর পর আরেকজনকে দোযখে পুড়ানোর যন্ত্রণা যদি সত্যিই আপনাকে আমাকে এভাবে স্পর্শ করতো- অন্যের কষ্ট লাঘবের যন্ত্রণা যদি আসলেই আমাদের ভাবাতো-তবে জীবিত মানুষের এই পৃথিবীটাইতো বেহেস্ত হয়ে যেতো।

পাঁচ) সাকিব আল হাসানতো শুধু পুজা উদ্বোধন করেছে। আপনি পেরেশান হচ্ছেন। কিন্তু শাকিলা, মিথিলা এরাও তো বড় স্টার। ইনারা শুধু পুজো উদ্বোধন করেন নি। ঘর সংসার সব কিছুই করছেন। দেশের ভিতরেইতো অনেক বড় নেতারা পুজো উদ্বোধন করেন। কিন্তু সাকিবের ওপরই এতো বিরক্ত কেন? ।

ছয় ) শাকিবের যে অপরাধের জন্য আসলেই প্রতিবাদ করা দরকার সেটা নিয়ে করছিনা । কারণ- ফোন ভাঙ্গা বেকুবটাতো শুধু কোটি ভক্তের একজন। তাতে কিবা এসে যায়। সেতো আর সেলিব্রেটি না । সেতো সাধারণ এক আমজনতা। আমজনতার মৃত্যু হলেই যেখানে কিছুই যায় আসেনা। সেখানেতো সাধারণ এক ফোন ভাঙ্গা। কিন্তু আইনের দেশে – প্যারিস হিলটনের মতো সেলিব্রেটিদেরও জেল খাটতে হয়েছিলো। জরিমানা দিতে হয়েছিলো। কারণ- আইনের চোখতো অন্ধ । সেতো দেখেনা- কে সেলিব্রেটি আর কে আমজনতা।

সাত ) কলকাতার মমতা মুসলিম জলশা উদ্বোধন করে কলেমা পড়লে আমরা খুশি হই। তবে, সাকিব আল হাসান পুজো উদ্বোধন করলে এতো রাগ হই কেন?
বলবেন- মমতা কলমা পাঠ করায় আমরা খুশি। কারণ-আমরা আমাদের ধর্মটাকে ভালোবাসি। সেইম কথাইতো হলো- ওরাও ওদের ধর্মটাকে ভালোবাসে।

আট ) আসলে এখানে মমতার ইসলাম ধর্মের প্রতি যতনা ভালোবাসা তারচেয়ে বেশী দরকার ভোট। আর সাকিবের হিন্দু ধর্মের প্রতি যতনা ভালোবাসা তার চেয়ে বেশী দরকার নোট।

নয় ) পরিশেষে- কাউকে ছোট করার জন্য বলছিনা। শুধু আমার পর্যবেক্ষণটুকু বলছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে সামান্য ভুল ত্রুটির জন্য কাজের ছেলেদের চড়-থাপ্পড় মারা-হলের ক্যাডার ফেডার যতজনকে দেখেছি- কারো পারিবারিক অবস্থা তত ভালো ছিলোনা। এই পারিবারিক অবস্থা বলতে আর্থিক অবস্থা বুঝাচ্ছিনা। আদর্শিক অবস্থা বুঝাচ্ছি। হুট করে মানুষ অনেক বড় হয়ে গেলে- মানুষের মাঝে একটা দম্ভ চলে আসে। সে তখন চারপাশের সবাইকে বড় তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে।